রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমীর বলেছেন নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে হলে নাকি জেনোসাইড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এটা বলে কি গোটা জাতিকে হুমকি দিলেন? জেনোসাইড হবে কেন? আমরা তো জেনোসাইড বন্ধ করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, বিপুল মানুষ নিজের জীবন দিয়ে একটি রক্তপিপাসু সরকারকে সরিয়েছে। আপনি এই আশঙ্কা করলেন কেন? আপনি তো একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। আপনি প্রচুর গণহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এটা তো একটা আতঙ্ক তৈরি করছেন।’
‘দেশ কিভাবে চলবে, সেই শাসন নিশ্চিত করবে জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবে তাদের প্রতিনিধি কে হবে। সেই নির্বাচনটা হতে হবে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। এটা ছাড়া গণতন্ত্র কখনোই শক্তিশালী হবে না।’
এআই দিয়ে বক্তব্যকে বিকৃত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন বক্তা বক্তব্য রাখলেন, কিন্তু আরেকজন সেটা মানতে পারল না। পরে সে এআই দিয়ে সেটাকে বিকৃত করে, অশ্লীল ও অশ্রাব্য কথা ব্যবহার করে। আপাত দৃষ্টিতে এটা ফানি মনে হলেও, কিন্তু এটা কিন্তু গণতন্ত্র না। এটা মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরেকটা আক্রমণ। সমাজ এবং রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘আজকে একটি রাজনৈতিক দলের একজন বললেন যে, তাদের কথায় প্রশাসন উঠবে এবং বসবে। এটা গণতন্ত্রের কোনো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নেই। এই কথার মাধ্যমে আপনি তো আরেকটা দানবীয় শাসন তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরেকটা শেখ হাসিনা এবং আরেকটা ফ্যাসিবাদ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। শেখ হাসিনা পুলিশকে বানিয়েছে ছাত্রলীগ, র্যাবকে বানিয়েছে যুবলীগ এবং তারা গুম-খুন করে আনন্দিত হতো। যারা ক্যাডার-ভিত্তিক দল করে, তারা প্রশাসন-বিচার বিভাগ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে ক্যাডার বসানোর চেষ্টা করে। এটাই হয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।’
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক প্রমুখ।