আন্দোলনে তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে হাসনাত বলেন, ‘এই তরুণ সমাজ আর দালালি করতে চায় না। কারও তাঁবেদার হতে চায় না। তরুণ সমাজ আর স্বৈরাচার হতে চায় না। সুতরাং, যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা জেনে রাখুন, আপনারা এই তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই জেন-জির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যখন দাড়িপাকা মুরুব্বিরা ফেইল করেছেন, বাবারা ফেইল করেছেন, তখন সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছে।’
‘বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা বেঁচে থাকতে আর বাসা থেকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে গুম হতে দেওয়া যাবে না। কোনও মায়ের বুক আর খালি হবে না। কোনও ইলিয়াস আর হারিয়ে যাবে না। কোনও দেশপ্রেমিক সাংবাদিককে বিদেশে থাকতে হবে না।’
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা প্রশাসনে আছেন, আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনারা ক্ষমতাপন্থি হবেন, আপনারা ভুল করছেন। আপনারা ভুলে যাবেন না, ১৬ বছরের ডিসি-এসপিদের কী পরিণতি হয়েছে। আপনারা ভুলে যাবেন না, এই দিন দিন না, আরও দিন আছে। আমরা আপনাদেরকে বলবো না, আপনারা এনসিপিপন্থি হোন, আওয়ামীপন্থি হোন। রাজনীতিপন্থি হওয়ার কী পরিণতি– সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই ডিসি-এসপিদের যদি কেউ স্বৈরাচারের পক্ষে অবস্থান করেন, যদি কেউ মিডনাইট ইলেকশনে সহযোগিতা করেন, এই বাংলাদেশে আর তার জায়গা হবে না।’
গোয়েন্দা সংস্থারও সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘রাষ্ট্রের এজেন্সিরা যারা রয়েছেন, বাংলাদেশের যারা গোয়েন্দা সংস্থা আছে তারা জানে না, বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র হয়। তারা জানে না, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে ফেলতে কী ষড়যন্ত্র হয়। যেটা করে, তারা ক্যান্টনমেন্টে বসে বসে রাজনৈতিক দল খোলে। তারা একটি রাজনৈতিক দলকে আরেকটা দলের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। আপনারা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আমরা আপনাদেরও দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করিনি। সুতরাং, সংস্কার ছাড়া, বিচার ছাড়া যদি ভোটের যদি চেষ্টা করা হয়, আমাদের বুকের ওপর দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে হবে। আমরা নির্বাচন চাই, অবশ্যই চাই। তবে সেটা সংস্কারসহ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ। আবার দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য আপনারা প্রস্তুতি রাখুন।’
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্যসচিব আখতার হোসাইন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






