রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে ফিফটি পাওয়া নিসাঙ্কা যখন ফেরেন, তখনই দলের স্কোর ১০৮ রান। নিসাঙ্কাকে ৫০ রানে থামান মেহেদী। মেহেদী তার পর কুশল পেরেরাকেও (৯) ফিরিয়েছেন। শেষ দিকে তানজিম সাকিব শানাকাকে (১) দ্রুত ফেরালেও তখন জয়ের কাছে লঙ্কান দল। তার পর কামিল মিশারা ও চারিথ আসালাঙ্কা মিলে ১৪.৪ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। জীবন পাওয়া মিশারা ৩২ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। আসালাঙ্কা ৪ বলে ১ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ২৯ রানে দুটি উইকেট নেন মেহেদী হাসান। একটি করে নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তানজিম হাসান সাকিব।

পেরেরার পর দ্রুত ফিরলেন শানাকাও

জয়ের কাছে থাকা অবস্থায় ১৩.২ ওভারে চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তানজিম সাকিবের বলে নতুন ব্যাটার শানাকা ক্যাচ তুলে আউট হন ১ রানে।

মেহেদীর ঘূর্ণিতে ফিরলেন পেরেরা

নিসাঙ্কাকে ফিরিয়ে এক ওভার পর আবার আঘাত হানেন মেহেদী হাসান। এবার নতুন ব্যাটার কুশল পেরেরাকে বিদায় দেন তিনি। ৯ রানে লঙ্কান ব্যাটার ফিরলে ১২৩ রানে শ্রীলঙ্কা হারায় তৃতীয় উইকেট।

নিসাঙ্কাকে থামিয়ে ৯৫ রানের জুটি ভাঙলেন মেহেদী

১৩ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিল মিশারার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ বলে ৯৫ রান যোগ করেন তারা। বিধ্বংসী এই জুটি অবশেষে ভেঙেছেন মেহেদী হাসান। ১০.৩ ওভারে পাথুম নিসাঙ্কাকে ৫০ রানে থামান তিনি। লঙ্কান ওপেনারের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়।

নিসাঙ্কার ফিফটি, দশম ওভারেই শ্রীলঙ্কার একশ

মিশারার ক্যাচ মিসের পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে ছুটছে শ্রীলঙ্কা। মিশারার সঙ্গে বারুদে ব্যাটিং করছেন ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাও। ৩১ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তাতে দশ ওভারেই ১ উইকেটে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয়ে যায় ১০৭ রান।

জীবন পাওয়া মিশারার ব্যাটেই পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৫৫

দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজ উইকেট নিয়ে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। পাওয়ার প্লেতে আরও একটি উইকেট নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। পঞ্চম ওভারে ৩ রানে ব্যাট করতে থাকা কামিল মিশারার ক্যাচ নিতে পারেননি মেহেদী হাসান। তার পর অবশ্য ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে অবদান রাখেন তিনি। শরিফুলের ওই ওভারেই একটি ছক্কা ও দুটি চারে পঞ্চম ওভারে যোগ করেন ১৮ রান। ষষ্ঠ ওভারে মেহেদীর ওভারে ছ্ক্কা মেরে ১ উইকেটে পাওয়ার প্লেতে স্কোর ৫৫ রানেও নিয়ে যান মিশারা।

দ্বিতীয় ওভারেই মোস্তাফিজের আঘাত

শুরুতেই শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলার কৌশলে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন তিনি। কুশল ৬ বলে বিদায় নেন ৩ রানে।

jaker ali and shamimবাংলাদেশকে উদ্ধার করেন জাকের আলী ও শামীম হোসেন।শ্রীলঙ্কাকে ১৪০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ধস দেখেছিল বাংলাদেশ। ৫৩ রানে হারায় ৫ উইকেট। তারপর অল্পতে অলআউট হওয়ার শঙ্কাও জাগে। ভীষণ চাপে থাকার ‍মুহূর্তে ৬১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের রেকর্ড জুটিতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে ১৩৯ রানের সংগ্রহ পাইয়ে দিয়েছেন জাকের আলী ও শামীম হোসেন। ষষ্ঠ উইকেটে টি-টোয়েন্টিতে এটি ছিল বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি।

ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল হতশ্রী। কোনও রান না তুলেই হারায় দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনকে। প্রথম রানটিও পায় ১৪তম ডেলিভারিতে। হৃদয়ের রানআউটে ১৬ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেটও। তার পর লিটন মেহেদীকে নিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা করেছেন ধাক্কা সামাল দিতে। তাতে পাওয়ার প্লেতে জমা হয় ৩০ রান।

মেহেদী ৯ রানে আউট হলে লিটনের ইনিংসও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। বাংলাদেশ অধিনায়ক কাটা পড়েন ২৮ রানে। দ্রুত সময়ে ৫ উইকেট হারিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে শামীম ও জাকের আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে উদ্ধার হয়েছে লাল-সবুজরা। তারা দুজনে মিলে চড়াও হওয়াতেই রানের চাকা সচল হয়েছে। জাকের আলী ৩৪ বলে ২ চারে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। শামীম ৩৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে।

লঙ্কানদের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ২৫ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট। একটি করে নেন নুয়ান থুশারা ও দুশমন্থ চামিরা।

সেই হাসারাঙ্গার বলেই কাটা পড়লেন লিটন

অষ্টম ওভারে হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিতে রিভিউতে রক্ষা পেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু দশম ওভারে আর শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভার্স সুইপ করতে গেলে গ্লাভসে বল লেগে জমা পড়ে কিপারের হাতে। তাতে ২৬ বলে ৪ চারে ২৮ রানে কাটা পড়েন লিটন। বাংলাদেশ ৫৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়েছে।

হাসারাঙ্গার বলে ফিরলেন মেহেদী, রিভিউতে রক্ষা লিটনের

অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসেই লিটন-মেহেদীর জুটি ভাঙেন হাসারাঙ্গা। ৭ বলে ৯ রান করা মেহেদীকে এলবিডাব্লিউ করেন লঙ্কান স্পিনার। এক বল পরে অবশ্য এলবিডাব্লিউতে আউট হতে যাচ্ছিলেন লিটন দাসও। হাসারাঙ্গার বলে আবেদন উঠলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। তখন রিভিউ নেন লিটন। রিপ্লেতে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করেছিল বল।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে উইকেটে ৩০

অবস্থা এমন ছিল যে শুরুর ধাক্কায় ৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১৬ রানে ৪ উইকেট। পাওয়ার প্লেতে সেভাবে রান না ওঠায় লিটন ষষ্ঠ ওভারকে টার্গেট করেন। তিনটি চার মেরে স্কোর নিয়ে যান ৩০ রানে। তাতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩০।

রান আউট হন হৃদয়।রান আউট হন হৃদয়।জীবন পাওয়ার পরের বলেই রানআউট হৃদয়

শুরুতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। থুশারার পঞ্চম ওভারে অযথা রান নেওয়ার তাড়ায় রানআউটে কাটা পড়েছেন ৮ রানে। তার আগের বলেই অবশ্য ক্যাচ তুলেছিলেন। সেটা হাতে জমাতে পারেননি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক আসালাঙ্কা। তখন হৃদয় ৪ রানে ব্যাট করছিলেন।

শূন্যতে আউট দুই ওপেনার

প্রথম ওভারে রান পায়নি বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। পরের ওভারে দশমন্থ চামিরার বলে শূন্যরানে বিদায় নেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও। তাতে ১০ বলে কোনও রান না নিয়েই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। শুরুর ধাক্কায় বাংলাদেশ দুই ওভারে কোনও রানই পায়নি। রান পায় ১৪ নম্বর বলে এসে।

প্রথম ওভারেই বোল্ড তানজিদ

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুর ওভারেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। কোনও রান নিয়ে ওভারের পঞ্চম বলে নুয়ান থুশারার বলে বোল্ড হয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। প্রথম ওভারে বাংলাদেশ কোনও রানই নিতে পারেনি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি বাংলাদেশ। আবু ধাবিতে আজ অবশ্য টস জিতেছে শ্রীলঙ্কান দল। তারা শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

টস হারলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন বলেছেন, তিনি শুরুতে ব্যাটিংই করতেন। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা বলেছেন, পিচটা নতুন মনে হচ্ছে। সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হংকংকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। লঙ্কান দল অবশ্য আজ শুরু করছে এশিয়া কাপ মিশন।

একাদশে কারা:

বাংলাদেশ একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। তাসকিন আহমেদের জায়গায় এসেছেন শরিফুল ইসলাম। তাছাড়া ফাস্ট বোলার হিসেবে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তানজিম হাসান। দুই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন।

লঙ্কান দলে রয়েছেন তিন অলরাউন্ডার- দাশুন শানাকার সঙ্গে কামিন্দু মেন্ডিস ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। স্পেশালিস্ট ফাস্ট বোলার রয়েছেন তিনজন- চামিরা, পাথিরানা ও থুশারা।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, দাশুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা, মাথিশা পাথিরানা, নুয়ান থুশারা।


এই বিভাগের আরো খবর