রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর ঢাকাগামী ট্রেনের পাওয়ারকারে তেল দেওয়ার জন্য ওয়াগন দুটি আনা হয়েছিল। তেল সরবরাহ শেষে ওয়াগন দুটি ঢাকা মেল সিক্স ডাউন ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করে ঈশ্বরদীতে নেওয়া হচ্ছিল। লোকাল ট্রেন হওয়ায় হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রাবিরতি দেয়। মাত্র তিন মিনিটের ওই বিরতির সময় ওয়াগনের ভেতর থেকে তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কতটুকু তেল চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিয়ান স্টেশন এলাকায় তেল চুরির ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তেল চুরি হয়ে আসছে। সাধারণত রাতের বেলায় এসব ঘটনা ঘটলেও মাঝেমধ্যে দিনের বেলায়ও চুরি হয়। মঙ্গলবারের ঘটনার সময় ওয়েম্যান কিরন আলী, তার ভাই নয়ন ও মিলনসহ কয়েকজন সেখানে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা ওয়াগনে উঠে জার, বোতল ও জগে করে তেল নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, ওয়েম্যানদের সঙ্গে যোগসাজশে বহিরাগতরা তেল চুরিতে জড়িত। তাদের মধ্যে কিরন আলী নেসকোর কাটাখালী বিদ্যুৎ স্টেশন সাইডিং লাইনের টিএলআর ওয়েম্যান। নেসকোর লাইনে দায়িত্ব থাকলেও মেট কামরুল ইসলাম তাকে মূল লাইনে কাজ করান বলে অভিযোগ রয়েছে। মেট কামরুলের সঙ্গে যোগসাজশে কিরন বিভিন্ন সময় এমন কর্মকাণ্ডে জড়ান বলেও অভিযোগ ওই সূত্রের।
ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক পরা কিরন একটি সাদা বস্তা ওয়াগন থেকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন। নিচে থাকা কয়েকজন সেটি নিয়ে সরে যান। পরে ওয়াগনের ভেতর থেকে তেল বের করে ছোট বালতি ও জারকিন নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। ট্রেন চলতে শুরু করলে কয়েকজন দ্রুত নেমে গেলেও কিরনকে শেষ পর্যন্ত ওয়াগনের ওপর দেখা যায়। পরে তিনিও একটি জগে তেল নিয়ে নেমে যান বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
তবে তেল নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়েম্যান কিরন আলী। তিনি বলেন, তেল নেওয়ার ঘটনায় তার ছোট ভাই নয়নসহ অন্যরা জড়িত ছিলেন। নয়ন তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় কাজ করছিলেন। বিষয়টি যাচাই করতে মেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে মেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে কিরন আলীর দীর্ঘদিনের সক্ষতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, সকালে ট্রেন এলে আমাদের পানি খাওয়ার জন্য আধা ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় যে যার মতো সময় কাটায়। কিরন আমাকে কিছু না বলে কোথায় গিয়েছে, আমি বলতে পারব না।
হরিয়ান স্টেশন মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ঢাকা মেল সিক্স ডাউন ট্রেন হরিয়ান স্টেশনে মাত্র তিন মিনিট দাঁড়ায়। তখন পাবনা থেকে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। ওই ট্রেনে রেলওয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। তাই ট্রেন ক্রসিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ঢাকা মেল সিক্স ডাউন ছেড়ে দেওয়ার সময় চিৎকার শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি তিনজন ট্রেনের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন করে জানানো হয়, ওয়াগন থেকে কিছু নামানো হয়েছে। আসলে ওয়াগনগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব আরএনবি ও জিআরপি পুলিশের। বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরএনবি চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, আমরা ফোর্স পাঠিয়েছিলাম ঘটনাস্থলে। তাদের ধরতে পারেনি। ভিডিওটি দেখেছি, তাদের চেনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। তাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পিডব্লিউ মো. বাকিতুল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা পোস্ট এর প্রতিবেদন







