রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সাত বছরের শিশু রিফাতকে গলাকেটে হত্যার দায়ে সৎ বাবা মোহাম্মদ আলীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। আজ দুপুরে রাজশাহী অতিরিক্ত দায়েরা জজ আদালত ২ এর বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর বাড়ী নাটোরের একডালা এলাকায়।
মামলার এজহার সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাত বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মোহাম্মদ আলী। ওই সময় তিনি বুলিবুলি খাতুন নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে মোহাম্মদ আলীকে বিয়ে করেন বুলবুলি। বুলিবুলি খাতুনের প্রথম স্বামীর সন্তান রিফাত।
ঘটনার বিবরণে জানাযায়, ২০১৯ সালের ২৮ মে ইফতারের পর তরমুজ কিনে দেওয়ার নাম করে রিফাতকে নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়। পরে তিনি নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। পরে পুঠিয়ার সেনভাগ এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের নির্জনে এনে রিফাতকে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার পর তার স্ত্রী রিফাতের কথা জানতে চাইলে তিনি তাকে দেখেননি বলে জানান। পরে রিফাত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে বলে দাবি করেন।
ওই রাতেই পুঠিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিফাতের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় মোহাম্মদ আলীকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী স্বীকার করেন স্ত্রী বুলিবুলি সন্তান নিতে না চাওয়ায় সৎসন্তান রিফাতকে তিনি হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় বুলিবুলি খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।