ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ৬টি আসনের ৩৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে আজ । রাজশাহীর মোট ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ এবং ১৮ প্রার্থীর কাগজপত্র ত্রুটি সহ নানা কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়। ১জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রাজশাহী ডিসি অফিস সভাকক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আক্তারের সভাপতিত্বে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
যাচাই-বাছাই শেষে রাজশাহী-১ আসনের ৬জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ। অপর ৩জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী ২ আসনের ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। রাজশাহী ৩ আসনে ৩ জন বৈধ ও ৪ জনকে অবৈধ ঘোষণা। রাজশাহী ৪ আসনে ৪জন প্রার্থীর মধ্যে ২জন বৈধ এবং ২জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রাজশাহী ৫ আসনে ৮জন প্রার্থীর মধ্যে ২জনকে বৈধ, ৫ জনের বাতিল এবং ১জনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। রাজশাহী ৬ আসনে ৪জন প্রার্থীর মধ্যে ৩জন বৈধ ও ১জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রাজশাহী ১ আসন থেকে মনোনয়নে বৈধতা পেয়েছেন- বিএনপি’র প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরিফ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়নে বৈধতা পেয়েছে- বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মো: জাহাঙ্গীর। রাজশাহী ৩ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী ৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী ডা: আব্দুল বারী সরদার, রাজশাহী ৫ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, জামায়াতের প্রার্থী মওলানা মনজুর রহমান, রাজশাহী ৬ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কাগজপত্র ত্রুটি সহ নানা কারণে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আক্তার।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থীরা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোন নির্বাচনই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়নি। সব প্রিজাইডিং অফিসার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এমনকি পুলিং অফিসাররা নজিরবিহীন ভোট কেটে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভূমিধ্বস বিজয় নিশ্চিত করেছে। এই বার কোন অপশক্তির কথা যেন তারা পুনরাবৃত্তি না ঘটায়। সে ব্যাপারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন বিএনপির নেতারা। অপর দিকে জামায়াত প্রার্থীরা গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিং অফিসারের মধ্যে কোন দলীয় লোক থাকলে তাদের বাদ দেয়ার আহবান জানান।