নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সেই সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। তবে সরকার নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করলেও কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে সেটি স্পষ্ট করেনি। অবশ্যই সরকারের ঘোষিত সময়সীমার আগেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে সেই আলোকে নির্বাচন হতে হবে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে গড়িমসির ফলে সরকারের নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি দুর্বলতা প্রকাশ পায় উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে অথবা গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সংবিধান সংশোধন ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি হবে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সংবিধান হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হতে সাহায্য করেছে, সেই সংবিধান বহাল রেখে নির্বাচন হলে যারাই ক্ষমতায় বসবে তারাও হাসিনার মতোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে। যারা হাসিনার তৈরি সংবিধান সংশোধন চায় না তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে যারা সরকারকে সহযোগিতা না করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাদের পরিচয় উন্মোচন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার ছড়াছড়ি করা যাবে না, কেন্দ্র দখল করা যাবে না, ভোট চুরি করা যাবে না, অস্ত্রের মহড়া দেওয়া যাবে না। এজন্যই একটি দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় না। তারা চাইছে পুরোনো ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে কোনোমতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ভোট চুরি করে যদি এক ভোটও বেশি আদায় করা যায় তাহলে বিজয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। জাতি যাদের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ মুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে সেই তরুণ ছাত্রসমাজ দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটের হিস্যা বুঝে নেবে। এক ভোটের ব্যবধানে লাখ লাখ ভোট নষ্ট হয়ে যাওয়ার পদ্ধতি বাতিল করতেই হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব মুখে নীতিবাক্য বললেও দেশ তাদের হাতে নিরাপদ নয়। এরা সুযোগ সন্ধানী, সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সুযোগ পেলেই বিষধর সাপের মতো এরা ফুঁসে উঠবে। দেশকে আবারও দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করবে। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না, দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নেতৃত্ব দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করতে পারবে না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
পথসভা শেষে নুরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে মতিঝিল এলাকায় গণসংযোগ পক্ষের দাওয়াতি অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামছুর রহমান, মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মোতাছিম বিল্লাহ, মতিঝিল উত্তর থানা আমির শামসুল বারিসহ মহানগর বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতারা।