শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান, তাই এ বছর হচ্ছে না বিপিএল

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

শেষ দুটি বিপিএল নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। নানা অনিয়ম, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পেমেন্ট জটিলতা এবং আর্থিক ক্ষতির কারণে এবার জোড়াতালি দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বয়সভিত্তিক তিন দলের নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তামিম ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা। সেখানে বিসিবি প্রধান বিপিএল নিয়ে বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবো যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’

এবার বিপিএল আয়োজন করলে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বিপিএল কেন সংকটে পড়তো? রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া বাকি দলগুলোর অবস্থা কী? কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা ভাঙা হয়েছে। যদিও রাজশাহী পেমেন্ট ক্লিয়ার করেছে, তবু তাদের ক্ষেত্রেও যে শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা নিয়মের কড়াকড়ি রক্ষা করা হয়েছে, তা নয়।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা থাকলেও গত দুই বছরে উল্টো বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো, যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়। তাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করা পর্যন্ত, লোকসান গুণে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

তবে বিপিএল আয়োজনের ইচ্ছায় কোনো ঘাটতি নেই বিসিবির। তামিমের পরিকল্পনা, তাড়াহুড়ো করে নয়; বরং প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই কাঠামোর মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা। বিসিবি সভাপতি যোগ করেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেবো। আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বা খেলাপি হয়েছে, সেই বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। বকেয়া পেমেন্ট বা ব্যাংক গ্যারান্টিসংক্রান্ত সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দিইনি। আমার মূল অগ্রাধিকার হলো পুরো সিস্টেমটিকে ঠিক করা, যাতে বিসিবি লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।’

আগামী বিপিএলের জন্য আগেভাগেই ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিসিবি। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আগে যা হতো-একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আগামী বছর এটি আয়োজন করার চেষ্টা করবো। আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা করবো না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে হয়, তবু আমি রাজি।’


এই বিভাগের আরো খবর