শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

আপনার কি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে?

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

এমন অনেক সময় আসে যখন ক্লান্তি বোধ করাটা অস্বাভাবিক নয়। নিদ্রাহীন রাত, ব্যস্ত সপ্তাহ, পরিবারের যত্ন নেওয়া যে কাউকেই পরিশ্রান্ত করে তুলতে পারে। কিন্তু ক্লান্তি যদি প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে? যদি আট ঘণ্টার ঘুমকেও চার ঘণ্টার মতো মনে হয়? যদি আরেক কাপ কফি মাত্র এক ঘণ্টার জন্য সাহায্য করে, তারপরই আবার ঝিমুনি ফিরে আসে? অনেকেই এটিকে বয়স বৃদ্ধি বা শুধু মানসিক চাপ বলে উড়িয়ে দেন।

শক্তি কোষের ভেতরের মাইটোকন্ড্রিয়া নামক ক্ষুদ্র কাঠামোর মধ্যে উৎপন্ন হয়, যাকে শরীরের শক্তিঘর বলা হয়। যখন এই মাইটোকন্ড্রিয়াগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ না করে তখন কোষগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে হিমশিম খায়। এই অবস্থাক কোষীয় ক্লান্তি (সেলুলার ফ্যাটিগ) বলা হয়। কোষীয় ক্লান্তি তখনই ঘটে যখন আপনার শরীরের কোষগুলো শরীরের দৈনন্দিন কার্যকলাপ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।

এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর মাইটোকন্ড্রিয়ার কারণে ঘটে, যার পেছনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব এবং এমনকি বার্ধক্যের মতো কারণও দায়ী। ঘুমের পর সতেজ বোধ করার পরিবর্তে, মানুষ সারাদিন ধরে কম শক্তি অনুভব করতে পারে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, মিটিংয়ের সময় মনোযোগ দেওয়া বা কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজগুলোও অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্তিকর মনে হতে পারে।

ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এই সময়েই শরীর তার কলা মেরামত করে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করে এবং স্বাস্থ্যকর বিপাকক্রিয়াকে সহায়তা করে। এমনকি কেউ বিছানায় যথেষ্ট সময় কাটালেও নিম্নমানের ঘুমের কারণে শরীরে এমন অনুভূতি হতে পারে যেন তা কখনোই পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। অলস জীবনযাপন শরীরের কার্যক্ষমতাকে ধীর করে দেয়। নিয়মিত নড়াচড়া রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে, স্বাস্থ্যকর মাইটোকন্ড্রিয়াকে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক কর্মশক্তি বাড়ায়। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ধীরে ধীরে শারীরিক সহনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার আগে সূক্ষ্ম থাকে। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিতে ভোগা অনেকেই মনে করেন যে তাদের কেবল আরেকটি ছুটি বা আরেক কাপ কফি প্রয়োজন। কিন্তু কোষীয় ক্লান্তি নীরবে তৈরি হয়। কোষীয় শক্তি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, দুর্বল শক্তি এবং ধীরে ধীরে সেরে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা যায়।


এই বিভাগের আরো খবর