বিদ্যুৎ আসছে, আবার চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি শহর থেকে গ্রাম সবখানে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের চিত্র আরও নাজুক। শহরে দুই থেকে চার ঘণ্টা ও গ্রামাঞ্চলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে না বিদ্যুৎ। কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। লোডশেডিং নিয়ে গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শহরের অফিস পাড়ায় চলছে আলোচনা।
পুঠিয়ার ভড়ুয়ারপড়ার বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে মোড়ে একটি চায়ের দোকানে স্থানীয়রা বসে সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন গল্পের মধ্যে ছিল বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং প্রসঙ্গ। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে তাদের কথায় অসস্তষ লক্ষ্য করা গেছে।
সাইদুর নামে এক ব্যক্তি বলেন, দিনে বিদ্যুৎ না থাকলে মানা যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বিষয়টি মানা যায় না। কারণ সারাদিন কাজ কর্ম করে বাসায় এসে শন্তিতে ঘুমাতে পারি না। এমন কষ্ট সবার।
গ্রামের গ্রাহকদের অভিযোগ, শহরের তুলনায় তাদের ভোগান্তি অনেক বেশি। রাতেও মেলে না স্বস্তি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন কাটে তাদের। দিনরাত মিলিয়ে গড়ে দুই থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারেই থাকতে হচ্ছে।
নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই মুহূর্তে ১৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা। কিন্তু আমরা সরবরাহ পাচ্ছি ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে এখন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কখনো চাহিদার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, কখনো লোডশেডিং হচ্ছে। এটা প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে। তবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলার ৫ উপজেলায় দিনে-রাতে চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের কেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে কারণে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে অনাকাঙ্খিত কোনো টনা যেন না ঘটে তাই জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।







