শুধু ভারতেই নয়, সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে ভারতের বাইরেও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি। তিনি স্বীকার করে নেন, ভারতের বাইরেও সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বলা হয়, তার বয়স কী সত্যি ১৫?
‘বিয়ার বাইসেপস’ পডকাস্টে বৈভবকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লি বলেন, ভারতের বাইরে এখনও অনেকেই তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘ভারতের বাইরে, বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় সবাই একটা প্রশ্ন করে- সে কি সত্যিই ১৫? ‘সে কি ১৫?’- এটাই সম্ভবত এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। কিন্তু আমার কাছে সে কত বছরের, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
‘সে যদি ১৫ বছরের হয়, অসাধারণ। কিন্তু সে ১৭ বা ১৮ হলেও তাতে কী আসে যায়? ছেলেটা ক্রিকেট খেলতে পারে। ভারতের জন্য সে দারুণ এক আবিষ্কার। সামনে সে আরও বড় ও ভালো কিছু অর্জন করবে।’
বৈভবের উত্থানের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হলো আইপিএল। এত অল্প বয়সে বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেটিই মুগ্ধ করেছে ব্রেট লিকে।
লি বলেন, বৈভব যেভাবে দ্রুতগতির বল সামলেছেন, সেটিই তার প্রতিভার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, ‘সে এত অল্প সময়ের মধ্যেই আইপিএলে আলোড়ন তৈরি করেছে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে তার ৯৭ রানের ইনিংসটি দেখুন। সে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিপক্ষে খেলেছে। তারা প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল, আর সে নাকের সামনে দিয়ে আসা বলও হুক করে সীমানাছাড়া করেছে।’
শুধু পাওয়ার হিটিং নয়, বৈভবের শট নির্বাচনের পরিণতিও লির নজর কেড়েছে। তার মতে, তরুণ এই ব্যাটার শুধু শক্তির ওপর নির্ভর করে খেলেন না; বরং প্রচলিত ক্রিকেটীয় শটও বেশ ভালোভাবে খেলতে পারেন। ‘সে সঠিক ক্রিকেটীয় শট খেলছে। কোথা থেকে যেন এমন শক্তি বের করে আনছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য,’- বলেন লি।
কারণ মাত্র কিশোর বয়সেই বৈভবকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল প্রত্যাশা। আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে সফল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর মানুষের প্রত্যাশা আরও বাড়বে। লির পরামর্শ, সেই চাপ থেকে বৈভবকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
‘তার ফর্ম বা ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা হবে না। তার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হবে তার মন। তাকে এখনও শিশু থাকতে হবে। তার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়,’ বলেন লি।
বৈভবকে বল করতে হলে কী করতেন লি?
বৈভবের ব্যাটিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ তার পুল ও হুক শট। শর্ট বলকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে আক্রমণ করার প্রবণতা রয়েছে তার। এমন একজন ব্যাটারকে নিজের সময়ে বল করতে হলে কী কৌশল নিতেন- সেটিও জানিয়েছেন ব্রেট লি।
এরপর নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করে লি বলেন, প্রতিপক্ষ ব্যাটারের ভিডিও ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেই পরিকল্পনা সাজাতেন। বৈভবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হতো না। ‘আমি অবশ্যই আগে বোর্ডরুমে যেতাম, ওপরের দিকে উঠে তার ব্যাটিং দেখতাম। এরপর তার হেলমেটের ব্যাজ বরাবর একটি বল করতাম এবং দেখতাম সে কী করে।’
তবে সেই বল ছক্কা হয়ে গেলেও থামতেন না লি। ‘হয়তো সে আমাকে ছক্কা মেরে দিত। কিন্তু তাতে আমি নিরুৎসাহিত হতাম না। আমি তাকে আবারও একই ধরনের বল করতাম।’
আইপিএলের মতো কঠিন মঞ্চে অল্প বয়সেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া বৈভব এখন তাই শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ তারকা নন, বিশ্ব ক্রিকেটেরও অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভা। তবে ব্রেট লির বার্তাটাই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- বয়সের সংখ্যা নিয়ে নয়, ব্যাট হাতে বৈভব কী করতে পারেন, সেটিই হওয়া উচিত আলোচনার বিষয়।