রাজশাহী–২ আসনটি বর্তমানে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আসুন পুনর্গঠিত হলে পবা উপজেলা রাজশাহী–২ আসন থেকে বাদ যায়। এই আসনে বর্তমানে ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান ১ লাখ ৩৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান ২৮ হাজার ১৭৬। এর আগে মিজানুর রহমান ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। তিনি ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী–২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেবার তিনি সারা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। এবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে মিজানুর রহমানের নগদ অর্থ রয়েছে ১১ লাখ ৭১ হাজার ৯৫ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭০ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫২ টাকা সমমূল্যের। তাঁর স্ত্রীর বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৫ টাকা সমমূল্যের। মিজানুর রহমানের ১০০ ভরি সোনা রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ৫০ ভরি সোনা।
মিজানুর রহমানের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। স্ত্রীর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৩ দশমিক ৪৭২৫ একর। মিজানুর রহমানের অকৃষি জমি রয়েছে ১ কাঠা। মিজানুর রহমান হলফনামায় পাঁচটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়ে মূল্য দেখিয়েছেন ৪২ হাজার ৬০০ টাকা। স্ত্রীর নামে চারতলা একটি বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৮২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
মিজানুর রহমানের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম পাস। দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় কলেজ ছাত্র সংসদের সহক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। জিয়াউর রহমান জাগোদল খুললে তিনি সেখানে যোগ দেন। পরে তিনি যুবদলের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হন। এরপর যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন মিজানুর রহমান।







