শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে আহত নুরশাদ আলী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহী তানোর তালন্দ ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে স্বশস্ত্র হামলা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে  এলোপাথারী কোপানোর ঘটনায় আহত নুরশাদ আলী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এঘটনায় আহতর ভাই এরশাদ আলী বাদি হয়ে ৮ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। এই নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার এজহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামীদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে নারায়নপুর গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে মতিউর রহমান, মশিউর রহমান ও তার বোন মরিয়ম, মশিউর রহমানের স্ত্রী নুরবানু, মতিউর রহমানের স্ত্রী শাহিনুর বেগম, মশিউর রহমানের মেয়ে মোহনা খাতুন এবং নগরীর খান সামারচক এলাকার আবুল হায়াত সুনু  ও তার ছেলে আরিফ মাহমুদ যুবরাজ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা ধারালো হাসুয়া, লোহার রড, লোহার শাবল, কোদাল, চাপাতি, রামদা ইত্যাদি নিয়ে তানোর থানাধীন ৫নং তালন্দ ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রাম তার বসত-বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় মরিয়ম বিবি এর হুকুমে সকল আসামীরা তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। এ সময় তার ছোট ভাই নুরশাদ আলী তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে আসামী মশিউর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে নূরশাদের মাথায় কোপ মারে। এতে নূরশাদের মাথার চাঁদির বাম মাথার খুলির হাড় ভেঙ্গে যায়। আসামী মতিউর রহমান হাসুয়া দিয়ে নুরশাদের মাথার ডান পার্শ্বে কোপ দিলে মাথার খুলি হাড়ভেঙ্গে যায়। অন্য আসামীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে নূরশাদের মাথার পিছনে আঘাত করে। আসামীরা বাদি ও  তার ভাইকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা, ফোলা ও কালশিরা জখম করে। আসামীরা শয়ন কক্ষের আলমারীতে থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং এইচ.কে. এগ্রো এর ব্যবসার নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা চুরি করে নেয়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আশংকাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
বাদীর অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার গ্রামের দুইজন মেম্বারসহ সাধারণ মানুষ আসামি মতিউর রহমান সহ বাহির থেকে আসা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের পুলিশের গাড়িতে তুলে দেয়। পুলিশ বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে থানায় নেয়ার আগেই তাদের ছেড়ে দেয়।
এদিকে ভিকটিম হাসপাতালে মৃত্যুও সাথে পাঞ্জা লড়লেও আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এব্যাপারে তানোর থানার ওসি জানান, তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আসামীরা বাড়ীতে না থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।


এই বিভাগের আরো খবর