বিশেষ করে পদ্মা নদীর উপর দেওয়া টিঁ-বাঁধ, আই-বাঁধ, পদ্মা গার্ডেনসহ নগর লাগোয়া বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গড়ে উঠেছে বিনোদন স্পট। প্রত্যেক দিন নগরের বাসিন্দা ও বাইরে থেকে আসা মানুষজন ঘুরতে যান এই নদীতে। তাদের অধিকাংশ নৌকা ভ্রমণ করেন।এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু নৌকাচালক নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই নদীতে চালাচ্ছেন নৌকা। কোনো কোনো নৌকায় আবার লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তা ভ্রমণকারীদের দেওয়া হয় না। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যেই চলে ভ্রমণ।
আই-বাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিনোদনের জন্য নৌকা ভ্রমণ করছেন। কিন্তু কোনো নৌকার চালক বা ভ্রমণকারীরা লাইফ জ্যাকেট পড়েননি। সঙ্গে ছোট ছোট শিশুরাও ছিল নৌকায়।
এ সময় দেখা গেছে, উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীতে। ঢেউয়ের উপরে ঢেউ। এর মধ্যে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নৌকা ভ্রমণ চলছে। কোনো কোনো নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। নৌকা ভ্রমণকারী সুমাইয়া নামের এক নারীর বলেন, অল্প সময় ভ্রমণ করেছি তাই এসব নিয়ে ভাবিনি। যদি সমস্যা হতো তাহলে কি করতেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তখন দেখা যেত। সমস্যাতো হয়নি।
রাকিব নামের অপর এক নৌকা ভ্রমণকারী বলেন, নৌকার চালকরাও দেয় না আর আমরাও চাইনি। এভাবেই চলে নৌকাভ্রমণ।এক নৌকাচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বাসস’কে বলেন, এভাবেই আমরা দীর্ঘদিন নৌকা চালাই, সমস্যা হয়নি। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে সেটার ব্যাপারে কি বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতো কিছু জানি না। আমরা এভাবে চালালেওতো ভ্রমণকারীরা কিছু বলে না, এ জন্য দেওয়াও হয় না। অপর এক চালক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, নৌকার মধ্যে লাইফ জ্যাকেট আছে কিন্তু নিজের পরা হয় না আবার যারা নৌকায় উঠে তাদেরও দেওয়া হয় না। অভ্যাস করলে ঠিক হয়ে যাবে। সামনে থেকে খেয়াল রাখবো। শুধু আই বাঁধেই নয়, টি-বাঁধ ও পদ্মা গার্ডেন এবং মুক্ত মঞ্চ কোনো স্পটেই লাইফ জ্যাকেট পরতে দেখা যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে নদীতে কখন নৌকা ছাড়বে, কখন বন্ধ থাকবে তা দেখভালের কেউ নেই। আবার নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে কি না সেটাও খেয়াল করার মতো কেউ না থাকায় যখন খুশি, যতজন খুশি যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ভেসে বেড়াই নৌকাগুলো। তারা জানান, নৌকায় ভ্রমণকারীদের একটা বড় অংশই তরুণ-তরুণী। তারা নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বন্ধু-বান্ধব সবাই একসঙ্গে নৌকা ভ্রমণে বের হন। নৌকায় উঠে তারা হৈ-হুল্লোড়ও করেন। ফলে নৌকাগুলো একদিকে হেলে পড়ে। এ অবস্থায় কখনও কখনও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটে প্রাণহানি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী নৌ পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমাদের নৌ পুলিশ ডিউটি করে। আমরা অনিরাপদ ভ্রমণ যাতে না হয় সেই ব্যাপারে সতর্ক করি। আমাদের অনুপস্থিতিতে হয়ত এমন হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হবে। সব নৌকায় যেন লাইফ জ্যাকেট থাকে তা নিশ্চিত করা হবে। নৌ পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।প্রসঙ্গত, রাজশাহীর পদ্মায় বিয়ের নৌকাডুবিতে ৭ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিখোঁজ ছিলেন বেশ কয়েকজন। এর পরপরই নৌকাডুবিতে আরও দুই তরুণীর মৃত্যু হয়।