মন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থায় অন্তত চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে শেষের দিকে রোগীদের অযথা ভয় দেখানো হয়। বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে বলা হয়, অপারেশন না করলে মা কিংবা শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকি নিতে চান না এবং সিজারিয়ান করাতে বাধ্য হন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমাতে হলে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ক্লিনিক ও হাসপাতালে লেবার রুম থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছি, আগামী শনিবারের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে লেবার রুম চালু করতে হবে। যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জেনেছেন, অনেক ক্ষেত্রে সিজারিয়ান প্রসবের পর নবজাতক জন্মের পরপরই মায়ের শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পায় না। অথচ এই শালদুধই নবজাতকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির উৎস।
তিনি বলেন, জন্মের পরপরই শালদুধ না পেলে শিশুর পুষ্টিগত ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘাটতির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা এবং মা ও নবজাতকের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।







