এ ঘটনার পর অনুষ্ঠানস্থলে আসেননি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গ্রামবাসী বেল্লাল বেপারি, নাঈম খান, সাইদুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘বরিশালের মুলাদী ও গৌরনদী উপজেলার মধ্যবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে সাহেবেরচর-কাচিরচর সেতু। সেতুর উদ্বোধন করার কথা ছিল উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার। দীর্ঘদিন পর বহু কাঙ্ক্ষিত সেতু হওয়ায় দুই প্রান্তের গ্রামবাসীর মধ্যে বয়েছিল আনন্দের জোয়ার। কিন্তু এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত না দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর থেকে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ‘সৌহার্দ্য সেতু’র নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামে উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।’
তারা আরও বলেন, ‘ওই সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এমদাদুল হক মজনু। তাকেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। যে কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ক্ষোভ থেকে গ্রামবাসী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর থেকে শুরু করে চেয়ারটেবিল ভাঙচুর করে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুলাদী উপজেলার নদীঘেরা নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তারই চেষ্টায় উপজেলার কাচিরচর-সাহেবেরচর-রামারপোল ও নাজিরপুরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর সৌহার্দ্য সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে।’
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে দাওয়াত না দেওয়া এবং আকস্মিক সেতুর নাম পরিবর্তন করায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ কারণে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে আসেননি।’
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে “৩৬ জুলাই সেতু” নামকরণ করে উদ্বোধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আপত্তি থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।’