সরকার ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। ১৬টি কঠোর শর্ত সংবলিত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই নদীর শাখা-প্রশাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসমুখ খনন কার্যক্রম।

এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের এক অমূল্য ভাণ্ডার। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হালদার যে অংশ থেকে নিষিক্ত মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়, সেটি মূলত হাটহাজারী অংশে পড়েছে। উৎসমুখ ঠিক থাকলে নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, এই লক্ষ্যেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে হালদার পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজননও বৃদ্ধি পাবে। একটি মা মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারলে কয়েক লাখ মাছের জন্ম হতে পারে।
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, মানিকছড়ির অংশটি ‘সালদা’ নামে পরিচিত। নদীর উৎসমুখের প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ৪৩ দিনব্যাপী এ প্রকল্পে ২০ জন দক্ষ ও ৪৭৬ জন অদক্ষ শ্রমিক কাজ করবেন। অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ৮০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।
হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র এবং এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যা প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ রয়েছে।
নদী রক্ষায় সরকারের এই খনন উদ্যোগকে তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









