আহসান হাবিব কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই সহ-সভাপতিকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার সংগঠন থেকে বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাকে সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়। সর্বশেষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আবারও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে তাকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।
হাসিবুলের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও বর্তমানে তিনি ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এ কারণে তার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পরে তাকে আবারও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি আহসান হাবিব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল হাসান ও রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে।







