শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

৯ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

রাজশাহীর সাথে সারাদেশের হঠাৎ ট্রেন চলাচল
রাজশাহী ২১ জুলাই ২০২৬
প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহী ঢাকা সহ সকল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল ৭টায় রেল অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধেতন কর্মকর্তা, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সাথে এক আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা ট্রেনে টিটি সুমন টিকিট না কাটা যাত্রীদের সরকারি রশিদ ছাড়া টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছিলেন। এসময় আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী  এর প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো পড়া টি-শার্ট  দেখেও তাকে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে নির্ধারিত গন্তব্যস্থলের আগের স্টেশনে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আজ সকাল থেকে রেলপথ অবরোধ করে রাখে। এতে অনেক ট্রেন রাজশাহী স্টেশনে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল স্টোশনের অদুরে আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পেহাতে হয়।

ছাত্রদের দাবী ছিল অভিযুক্ত টিটি সুমনকে হাজির করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর দিয়ে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এর পরপরই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত টিটি সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বার্তয় জানায়, মঙ্গলবার ভোররাতে রাজশাহী অভিমুখী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণরত একজন শিক্ষার্থীকে কর্তব্যরত টিটিই কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর এক পর্যায়ে উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ সেখানে যান এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহিত সিদ্ধান্ত নিম্নরূপ:
১. ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহীকে আহ্বায়ক করে রাজশাহী মেট্রোপলিট পুলিশের প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর, বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহীর প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম মিয়া সমন্বয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
২. ইতোমধ্যে বরখাস্তকৃত কর্মচারীসহ রেল কর্তৃপক্ষের অন্যান্য অব্যবস্থাপনার কোনো দুর্বলতা/গাফিলতি আছে কি না এ বিষয়ে বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সদর দপ্তর থেকে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৩. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রাত্রিকালে চলাচলকারী পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস এবং সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পূর্বের মতো স্টপেজের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রসঙ্গত, অনেক পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে যায়।
৪. অন্যান্য সকল ট্রেন বিশেষ করে রাত্রিকালীন ট্রেনের সাথে সময় সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী রেল স্টেশন পর্যন্ত শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. আহত শিক্ষার্থীর উপযুক্ত চিকিৎসার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সাথে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করবেন।
৬. গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতির বিষয়ে আগামী ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।


এই বিভাগের আরো খবর