সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ও রক্তাক্ত সীমান্ত বাংলাদেশ-ভারত : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ও রক্তাক্ত সীমান্ত বাংলাদেশ-ভারত। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশিদের পাখির মতো গুলি করে মারলেও হাসিনা সরকার নীরব থাকতো ও পররাষ্ট্রনীতি মাথানত করে চলতো। ভারত মনে করতো হাসিনা তাদের একজন বিশ্বস্ত, অনুগত। কিন্তু এখন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর থেকেও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীর ভুবন মোহন পার্কে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ  ও আহত  পরিবারদের সাথে সাক্ষাৎ  আর্থিক অনুদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি ভারতের সমালোচনা করে বলেন,  ভারতে এখন শেখ হাসিনার দোসরদের বাগানবাড়ি পরিণত হয়েছে। ভারতের সব অপকর্ম শেখ হাসিনা মেনে নিতেন।  যখন যা ইচ্ছে করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের হত্যা করে রক্তাক্ত করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে, ভারত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। শেখ হাসিনা ছিল দস্যু দলের সর্দারনি।’‘ভারত বাংলাদেশের বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করছে। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের এত মাথাব্যথা কেন?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  ড. ইউনুস  সরকারেরও সমালোচনা  বলেন,  যেই যাই বলুক না কেন নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করলে এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন সম্ভব হলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে ডিসেম্বর নয়, জুন-জুলাইয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব। এটি নিয়ে গড়িমসি করলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা আসবে।’

রিজভী বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। ভাই, আমরা তো এটা বুঝতে পারছি না। গণপরিষদ করতে হয় এই কারণে তার মাধ্যমে একটা সংবিধান রচনা করা হয়। আমাদের তো সংবিধান আছে। শেখ হাসিনা সংবিধানে অনেক ধরনের ফ্যাসিবাদী আইনকানুন যুক্ত করেছেন। কিন্তু এটা তো সংশোধনের বিধান আছে। ৭২ এর সংবিধান অনেকবার সংশোধন হয়েছে। তো গণপরিষদ আসছে কেন? এই কথাগুলো বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’

আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরকার, তারপরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।  বাপেরই জন্ম হলো না, তো সন্তান জন্ম হবে কী করে? আগে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হলে আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’সংস্কার তো চলমান ধারা। এটা চলবে যাতে কোনোদিন কোনও ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে।

আমরা বিএনপি পরিবার সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান রুম্মন এর সভাপতিত্বে  স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, আশরাফ উদ্দিন বকুল, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা, সদস্য সচিব মামুন অর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, সদস্য সচিব  বিশ্বনাথ সরকার, রাজশাহী  ১ তানোর গোদাগাড়ী আসনের বিএনপির সাম্ভব্য প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক সহ বিএনপির, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ ।


এই বিভাগের আরো খবর