সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

তাদের মধ্যে নতুন করে ষড়যন্ত্রের বিষ ঢুকে গেছে : মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, আমরা প্রধান উপদেষ্ঠা ড. ইউনুসকে সন্মান করি, কিছু কিছু উপদেষ্ঠাদের ভালোবাসি। কিন্তু মনে হচ্ছে তাদের মধ্যে নতুন করে ষড়যন্ত্রের বিষ ঢুকে গেছে। তাই আগামী দিনে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। স্বৈরাচার হাসিনা পতন আন্দোলনে রাজপথ ছিল আমাদের ঠিকানা, আগামীতে কোন ষড়যন্ত্র করে দেশের স্বাধীনতা স্বার্র্বভৌমত্ব বিপন্ন করা হয়, জনগনকে যদি বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আবারও রাজপথে থেকে মোকাবেলা করা হবে। মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দলের মধ্যে কেউ কেউ স্বৈরাচারের দোসরদের পূণর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তারা সাবধান হয়ে যান, তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। রাজশাহী শাহমুখদুম ও চন্দ্রীমা থানা বিএনপির উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিজানুর রহমান মিনু বলেন, খুনি ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও ঈদ সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেনি। দাড়ি টুপি ওয়ালা লোক দেখলেই জঙ্গি বলে তাদের উপরে অত্যাচার করা হতো। এমনকি বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মারা গেলে জানাযা করতে বাধা প্রধান করতো।

এবারের ঈদ সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে উদযাপন ও ঈদ পুণর্মিলণী করায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বিগত সতের বছরে বিএনপি প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম সঠিক ও সুন্দরভাবে করেছে। এই আন্দোলন করতে যেয়ে দুই লক্ষ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছিলেন। ১৫০জন নেতা গুম হয়েছেন। আর ২০০ নেতাকর্মী সে সময়ে শহীদ হয়েছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নামে একটি নুতন দেশ গঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় দেশের মানুষ পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ ছিলো। ঐ সমেয় সিপাহী জনতার আন্দোলন করে জিয়াউর রহমানকে কারামুক্ত করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেন।

তিনি আরো বলেন, এই স্বৈরাচার হাসিনার কবল থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করতে এবং গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নিশ্চিৎ করতে তারেক রহমান সুদুর লন্ডন থেকে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘ পনের বছর তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। যার ফলশ্রুতি হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ফল। এই আন্দোলনকে দমন করতে এবং নিজের ক্ষমতাকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার উপরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। এই আন্দোলনে অনেক বিএনপি, অঙ্গ ও সহেযাগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নিহত ও আহত হন।

অনুষ্ঠানে বিশেস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ এবর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আলম টুলু ও শাহীন ইকবাল, চন্দ্রিমা থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ আলী, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, কৃষি ব্যাংক শ্রমিক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, কৃষি ব্যাংক সিবিএ এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন।

এছাড়াও রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিলন, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহেযাগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর