রাজশাহী তানোর উপজেলার কোয়েলহাট উত্তরপাড়ার গ্রামে এখনো চলছে শোকের মাতম। মা রুনা খাতুন আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায়। তাকে শাস্তনা দেয়ার ভাষা নেই আত্মীয় স্বজনদের। বাবা রাকিব উদ্দিনও তার কলিজার সমতুল্য সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর। শুধু তার গ্রাম বা উপজেলা নয় দেশের লাখো সাজিদের মৃত্যুতে ব্যথিত। আজ সকালে দাফনের আগেও শত শত মানুষকে কাঁদিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে অশ্রুসিক্ত করে চির বিদায় নিয়েছে দুই বছরের শিশু সাজিদ। তবে তার মৃত্যও জন্য যে দায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছে গ্রামবাসী।
রাতে মৃত্যুও খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই শতশত মানুষ ভীড় করে মৃত সাজিদদের। নারী পুরুষ শিশু কিশোর সবাই ছুটে আসে তাদের সকলের প্রিয় সাজিদের মৃতদেহ দেখতে। অশ্রুসিক্ত নয়তে সাজিদেও নিহর দেহ দেখে বহু মানুষ কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সাজিদের মায়ের আহাজারীতে এক হ্রদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তাকে শন্তনা দেয়ার ভাষা নেই কারো।
সকাল সাড়ে ১০টায় নামাজে জানাজা শেষে বেলা ১১টার দিকে তার নিজ গ্রামের নিমকুঁড়ি পূর্বপাড়া গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজা ও দাফনের সময় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাজশাহীর ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শ্বাসরুদ্ধ অভিযোনে ৩২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দুই বছরের সাজিদকে সরু পাইপের ৪৫ ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেয়া হয়। তবে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। তানোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। রাতে তার মৃতদেহ নিজ গ্রামের বাড়ীতে নেয়া হলে এক হ্রদয়রিদারক দৃশের অবতারনা হয়। শিশু সাজিদের মা ও আত্মীয় স্বজনদের আহাজারীতে পুরো গ্রামে স্তব্ধ হয়ে যায়। সাজিদের এই অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেনা।
দেশবাসীর কাছে দোয়া ও দোষির বিচার চায় সাজিদের পিতা।
এদিকে এই মৃত্যুর জন্য সাজিদের পিতা ও গ্রামবাসী দায়ী করেছেন ওই জমি মালিক ও কূপ খননকারী কসির উদ্দিনকে। গত দুই বছর আগে সেচ পাম্প বসানোর জন্য ৯০ থেকে ১৩৫ ফুটের তিনটি গত করে রাখে। গর্তগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ না করে খোলা রাখে। শুধু তাই নয়, সাজিদের বাড়ী সংলগ্ন একটি পুকুরে বিদ্যুতায়িত্ব করে রাখে বিদেশ ফেরত এই কসির উদ্দিন। তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চায় গ্রামবাসী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রুতশ্রুুত দিয়েছেন তানোর ইএনও।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট উত্তরপাড়া মায়ের সঙ্গে জমিতে খেলতে গিয়ে বাড়ী ফেরার পথে পরিত্যক্ত নলকূপের একটি পাইপের গর্তে পড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য দিনরাত বিরতিহীন ভাবে সব ধরনের চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি উদ্ধারকারীরা।