বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান(গ্রেড-২)। আজ (০৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী, গোদাগাড়ী, নাচোল, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা ও পৌরশার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সমস্যা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সম্ভাবনার কথা নির্বাহী পরিচালকের কাছে তুলে ধরেন। নির্বাহী পরিচালক তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রয়োজনীয় সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিএমডিএর কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। বরেন্দ্র অঞ্চলের কোন জমি শুধু পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকবে এটা আমরা চাই না। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পানি নিশ্চিত করে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা এবং উৎপাদন বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির অপচয় রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। কৃষক যেন সেচের জন্য হয়রানির শিকার না হন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবাপাই সেই দিকে নজর রাখতে হবে। মাঠে গিয়ে কৃষকের কথা শুনতে হবে, তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রম শুধু কাগজে-কলমে নয়, তার সুফল কৃষকের মাঠে পৌঁছেছে কি না, সেটিই দেখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ডিপ টিউবওয়েল গুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সেচের সময় বিদ্যুৎতের কোন সমস্যা হলে আমরা কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ এর মাধ্যমে সেচ সেবা নিশ্চিত করতে পারবো। কৃষকদের যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে সেচব্যবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। এর ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং কৃষকরা আরও নির্ভর যোগ্য ভাবে সেচসুবিধা পাবেন।
নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মতবিনিময় কালে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জনবল সংকট, সেচযন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নির্বাহী পরিচালক এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে চিহ্নিত সমস্যার ভিত্তিতে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, অনাবাদি জমির তালিকা তৈরি, সেচ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কার, পানির উৎসের সর্বোত্তম ব্যবহার, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনকালে গোদাগাড়ীর কৃতী সন্তান সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক(আইজিপি) ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ড.এম. এনামুল হক ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ড.এম আসাদুজ্জামানের কবর জিয়ারত ও রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান।
রাজশাহী, গোদাগাড়ী, নাচোল, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা,মহাদেবপুর, ধামোরহাট, পোরশা, নওগা রিজিয়ন-২ সহ জোন অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, মেকানিক, হিসাবরক্ষণ, অফিস সহায়ক সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মাঠ পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।