সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার : যুবদল নেতা টুটুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় পুকুর খনন নিয়ে বিএনপির ও যুবদলের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ। এই নিয়ে তৃণমুল বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্য চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বাগমারায় জোর করে পুকুর খননের অভিযোগ তুলে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল সহ কয়েকজন যুবদলের নেতাকর্মীদের নামে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বিচারক আবেদনটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মামলা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় ঘটনার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারী উল্লেখ রয়েছে। মামলার আবেদন করা হয়েছে দেড় মাস পরে ১৮ মার্চ। আদালতে মামলার আবেদন করার আগে বাদী আফাজ উদ্দিন নিজে ও তার ছেলে রাশেদ খান মিলন ও ছেলের বউ ইশিতা ইয়াসমিন বাগমারা থানায় ৪টি সাধারণ ডায়েরী করেন। কিন্তু কোন সাধারণ ডায়েরীতে যুবদলের সদস্য সচিবের নাম ছিল না। সাধারণ ডায়েরীতে যাদের অভিযুক্ত করা হয় মামলা তাদের মধ্যে অনেকের নাম নেই। আবার যুবদল নেতাসহ আরো কয়েকজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। মামলা যে ৫ জনকে স্বাক্ষি করা হয়েছে, এর মধ্যে বাদীর দুই ছেলে ও ছেলের বউয়ের নাম রয়েছে।
এদিকে যুবদল নেতা টুটুলকে জড়িয়ে মামলা দায়ের প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা টুটুল বলেন, কোথাও কোন পুকুর খনন ঘটনার সাথে তার নুন্যতমও সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বাগমারা সন্তান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে যুবদলের সদস্য সচিব হয়ে সুনামের সাথে রাজনীতি করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী- ৪ বাগমারা আসনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এতেই তার কাল হয়েছে। প্রতিপক্ষরা তার জনপ্রিয়তার সাথে পেরে না উঠে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি মামলার বাদিকে তিনি চিনিনা না। তার বিশ্বাস বাদীও তাকে চেনেন না। পুকুর খননের সাথে যারা জড়িত তাদের তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান তিনি। এর সাথে যদি যুবদলের কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের বহিস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাগমারা থানায় প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের ও জেলা প্রশাসক’র মাধ্যমে কয়েকটি মন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি দেয়া কালে তার নাম উল্লেখ ছিলনা। কিন্তু হঠাৎ করে উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা মামলায় তার নাম উল্লেখ করাটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি জানান। এছাড়া বাগমারা উপজেলা প্রশাসন পুকুর খনন নিয়ে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা কালে তার কোন সম্পৃক্ততা পায়নি। ওই সময় যাদের পাওয়া গেছে তারাই প্রকৃত অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত। এ ব্যাপারে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি এলাকার লোকজনের কাছে টুটুল সাহেবের সংশ্লিষ্টতা কেউ বলেনি। মামলার বাদির ছেলে রাশেদ খান মিলন বলেন, পুকুর খনন হয়েছে রাতের আধারে আমরা তাকে (টুটুল) সেখানে দেখিনি তবে আমাদেরকে যারা হুমকি দিয়েছে তারা তার নাম বলেছে।

 


এই বিভাগের আরো খবর