বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত, পাস হলো এসআরবি বিল

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিরোধী দলের নানা আপত্তি ও সমালোচনার মুখেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে বিলটি পাস করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে সেটি পাস হয়।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপিত হলেও সেখানে বিলটির বিভিন্ন ধারার ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানানো হয়। তবে সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নতুন নামে একই ধাঁচের বাহিনী গঠন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই এই আইন পাস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের আপত্তিতে উল্লেখ করেন যে, র‌্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য তারা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান। বিশেষ করে র‌্যাবের পুরোনো নথি, গুমের আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি স্থানান্তরের আগে আলাদা তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না হতে পারে।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির মূল দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূঁইফোড় ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার, গুম ও মাদক দমনে বাহিনীটি কাজ করবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারি, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর বা তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার বা পুলিশ প্রধানের নির্দেশনায় এসব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

বিলে বাহিনীর সদস্যদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির প্রতি নির্যাতন বা বল প্রয়োগ, প্ররোচনা দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা বেতন-ভাতা বাজয়াপ্তের পাশাপাশি তিরস্কার ও জরিমানা মতো শাস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসনে একটি বিশেষ ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠিত হবে।


এই বিভাগের আরো খবর