সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী বিএনপির নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কাজের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

রাজশাহী বিএনপিতে নীতি-আদর্শ পরিপন্থী অপ-তৎপরতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে মহানগর বিএনপির একাংশ। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রোববার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিষবৃক্ষ নির্মূল হলেও রাজশাহী মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটির কয়েকজন নেতা স্বেরাচার আওয়ামী লীগ সহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলে ভিডিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ওই সব নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ অপকর্মের সাথে জড়িত। এমনকি জুলাই বিপ্লবের ছাত্র জনতার উপরে হামলার সাথে সম্পৃক্ত এবং সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানকারীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যক্ষভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় প্রদান করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির চিহ্নিত নেতৃবৃন্দ বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠান জবরদখল, ভূমি-ভবন দখল, অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, চাঁদাবাজি সহ ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দ্বারা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। শুধু তাই নয় রাজশাহীতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মহানগর থেকে থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নির্যাতিত হামলা মামলার শিকার পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি করা হয়। এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে হাইব্রিড নেতার উদ্ভব হচ্ছে বলেও জানান। বিগত সময়ে আওয়ামী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিএনপির নেতা কর্মীরা রাজশাহীতে হামলা মামলা জুলুম নির্যাতনে শিকার হয়েছেন, সেই আওয়ামী কর্মীদেরই বর্তমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন, শিষ্য বানাচ্ছেন এবং তাদেরকে দলীয়ভাবে আশ্রয় দিচ্ছেন।

সাইদুর রহমান পিন্টু বলেন, গত বছরের জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সেইসাথে তার দোসরাও অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরপর রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে ৩১ দফার একটি রুপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এখনো ফ্যাসিবাদের দোসরা পুণরায় দেশকে অস্থিতিশীর করে তুলতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির কতিপয় নেতা আওয়ামী লীগসহ ঐ দলের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যক্ষ ভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। ঐ সকল নেতাকর্মী তারা চাঁদাবাজী, হত্যা ও জুলাই- আগস্টে ছাত্র-জনতার উপরে সরাসরি হামলার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহীতে আওয়ামীলীগের যোগ সাজসে চলছে বিএনপি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বর্তমান মহানগর কমিটি বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বিএনপির কমিটির নামে আওয়ামী লীগের চিন্থিত সন্ত্রাসীদের অর্থের বিনিমিয়ে পদ দিচ্ছেন। এর দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হচ্ছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আওতাধীন রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক শাহীন আহমেদ, মাহমুদল হক রুবেল, হারুনুর রশিদ (সাবেক জাসদ নেতা), আব্দুর রাজ্জাক হয়েছেন ( সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা) এবং একই কমিটির সাবেক সদস্য বদরুদ্দোজা বদর বিগত আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন মতাদর্শ যেমন জাসদ, জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।

শুধু তাই নয় মিজান ও আমিনুল বিগত সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ ও সিটি নির্বাচনে সরাসরি ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোসহ দলীয় ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু তাই নয় বিগত সরকারের আমলে যখন তারা মামলা হামলায় জর্জরিত তখন বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়ক গণ নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতেন। কারন তাদের নামে সে সময়ে কোন মামলা হয়নি। তারা মুলত আওয়ামী লীগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং যোগসাজস করে চলতেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি মোটর মালিক সমিতি মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করে নিয়েছেন। এছ্ড়াাও তাদেরই নেতৃত্বে চলছে খুন, চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম। খুনিদের নামে মামলা হলেও পুলিশ তাদের নির্দেশে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা বলে জানান তিনি। কিছুদিন পূর্বে রাজশাহী মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন বাবলুর বাড়িতে হামলা, গান পাউডার দিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করেন রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ পারভেজ পিন্টুসহ আরো অনেকে। তাদের মামলা হলেও দল থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উপরোন্ত তাদের আহ্বায়িক থেকে সভাপতি, সদস্য সচিব থেকে সাধারণ সম্পাদক করে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
এখানে সকল ত্যাগিরা উপেক্ষিত হচ্ছে। আগামীতে আর এরকম ভাবে আর কোন কমিটি গঠন করতে দেয়া হবেনা। এই বতর্মান কমিটির কার্যকলাপ বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা হলেও অজ্ঞাত কারনে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দলকে বাঁচাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিবসহ দলীয় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এসময় সম্প্রতি রাজশাহী মহানগর বিএনপির বিতর্কিত কর্মকান্ডের সচিত্র ব্যানার ফেস্টুন সম্মেলন কক্ষে টাঙিয়ে রাখা হয়। ২০ মে মহানগর বিএনপির আসন্ন কাউন্সিল যাতে পেছানো হয় এবং প্রকৃত নেতৃবৃন্দ দের দিয়ে কাউন্সিল করে নেতৃত্ব তৈরীর দাবি তোলেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, বাবলুর বাড়ীতে হামলা সহ অনান্য হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ উদাসিন। পুলিশের কার্যক্রম দেখে মনে হয়, আসামী ও পুলিশের সম্পর্ক শালা দুলাভাইয়ের। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক কমিটির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজপাড়া থানার সাবেক সভাপতি শওকত আলী, মতিহার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনসার আলী, শাহমখদুম থানার সাবেক সভাপতি মাসুদ, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন দিলদার, শাহমখদুম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ আব্দুল মতিন, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, মতিহার থানা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খাজদার আলী, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ সুইট ও মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন বাবলু। এছাড়াও বিভিন্ন ও ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ ছিলেন।

এদিকে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ আলী ঈশা।

 

 

 


এই বিভাগের আরো খবর