রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে নিজ সম্পত্তি রক্ষায় ভূক্তভোগি এক পরিবারের সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

চুরি,ভাংচুর, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা, হত্যার হুমকী প্রতিবাদে এবং আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভূক্তভোগি পরিবার। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন মাসুদুর রহমান ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নগরীর হেতম খাঁ এলাকার মাসুদুর রহমান বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তিতে বংশ পরমপরায় বসবাস করে আসছেন। তারা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে সকল সম্পত্তি সবার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। কিন্তু হঠাৎ করের তাদের সবার ছোট ভাই মতিউর রহমান নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যবরণ করলে তাঁর ত্যাক্ত সম্পত্তিতে আবারও তারা সবাই অংশিদার হন। এর মধ্যে থেকে তার দুই বোন শিরিন আকতার ও সখিনার অংশের ২২৯০ দাগে ০.০০৫৭৬২ একর সম্পত্তি তাদের অগোচরে ১নং আসামী টনি গোপনে ক্রয় করেন। এই সম্পত্তি উদ্ধারে রাজশাহী সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রাজশাহীতে ০৯/২০২৩ অঃ প্রঃ (অগ্রক্রয়) মামলা করা হয়। যাহা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন অত্র সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ সালে আদালতে ২৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জমা প্রদান করেন তিনি। মামলা নিস্পত্তি না হওয়ায় টাকাগুলো আদালতে রয়েছে। ঐ সম্পত্তির মোট মূল্য নির্ধারণ হয় আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। টনি এর মধ্যে বায়না বাবদ চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করে দলিল করেন। আঠারো দিন পরে একই সম্পত্তি বাবদ পুণরায় আরেকটি দলিল করেন। সেখানে একই সম্পত্তির মূল্য ২২ লক্ষ টাকা। যাতে করে আমি ঐ সম্পত্তি ক্রয় করতে না পারি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করার পূর্বে তার নিকটতম আত্মীয়স্বজনকে জানানোর আইন রয়েছে। কিন্তু তাদের বোনদ্বয় তাদের কিছুই জানায়নি। বিক্রিত সম্পত্তির মূল হকদার তিনি এবং তার ভাই। তারা যদি ঐ সম্পত্তি ক্রয় করতে অপারগতা প্রকাশ করতেন তাহলেই বোনরা অন্যদের নিকট জমি বিক্রয় করলে কোন প্রকার আপত্তি থাকতো না। প্রৃকত পক্ষে যে সম্পত্তি টনি ক্রয় করেছে তা তাদের বাড়ির ভিটা। ঐ সম্পত্তিতে অন্য কেউ আসলে তারা বসবাস করতে পারবেনা।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের ৩০ মে টনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তার বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করে, গেট ভাংচুর করে। সেইসাথে বাড়ির গেটের তালা ভেঙ্গে ফেলে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেইসাথে প্রান নাশের হুমকী দিতে থাকে। এ সময়ে ঢাকা থাকায় তার স্ত্রী ফারজানা মল্লিক ৯৯৯ এর কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। টনি মূলত একজন সন্ত্রাসী ব্যক্তি। তিনি বলেন, তাদের কোন সন্তানাদি না থাকায় টনি গংরা তাদেরকে হত্যা করে সমস্ত সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য পাঁয়তারা করছে। টনি গংরা শুধু সন্ত্রাসীই নয়, তারা ভূমি দস্যু ও দখলবাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে তার স্ত্রী টনি এবং অজ্ঞাত আরো বেশ কিছু সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে টনি আরো ক্ষীপ্ত হয়ে ৩ জুন ২০২২ইং তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সঙ্গে অজ্ঞাত আরো ৪ থেকে ৫জনকে নিয়ে আমার বাড়িতে এবং থানায় গিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলে। না হলে প্রান নাশের হুমকি দেয় টনি গংরা। এ নিয়ে তার স্ত্রী ফারজানা মল্লিক পুণরায় বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নম্বর-২১০।

মাসুদুর রহমান আরো উল্লেখ করেন ২২৯০/২২৯১ দাগে টনি, হামিম ও রায়হানসহ আরো অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে নিয়ে তার গোডাউনে প্রবেশ করে গোডাউনের সাটার ও পাকা দেয়াল ভেঙ্গে আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এ গুলো যেন ডকুমেন্ট হিসেবে রাখতে না পারি, সেজন্য আমার গোডাউনের সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে এবং খুলে নিয়ে যায়। শুধু তাইনয় টনি, হামিম ও রায়হানসহ আগত সকল আসামীদেরকে গোডাউনে থাকা সমস্ত মালামাল বাহির করে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দেন। হুকুম পাওয়ার পরে আসামীরা তার গোডাউন থেকে পঞ্চাশ সেফটি কাঠ, লোহার জানালা ও গ্রীল আঠারোটি, লোহার বুক সেলপ, কাঠের দড়জা, লোহার দড়জাসহ আরো আনুসাঙ্গিক অন্যান্য দ্রব্যাদি যার সর্বোমোট মূল্য তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এই মালামাল গুলো জোরপূর্বক বের নিয়ে যায়। আসামীরা যাওয়ার সময়ে তাকে এবং তার পরিবারকে প্রান নাশের হুমকী দেয়। শুধু তাইনয় টনি গংরা এখনো তাদের মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকী প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
এ ঘটনায় মামলার পরে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে একটি সাটার গেটের ফ্রেম আসামী টনির বর্নালী ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করেন। তারা এখনো প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকী পাচ্ছে। প্রানভয়ে তারা দিনাদিপাত করছেন। আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাসুদুর রহমান সহধর্মীনি ফারজানা মল্লিক।


এই বিভাগের আরো খবর