শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচন : ১৩ সিটিতে জামায়াতের একলা চলার নীতি

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে আসন ভাগাভাগি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হয় জামায়াতে ইসলামী। তবে, সামনে আসা দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে দলটি।

ইতোমধ্যে প্রায় সবকটি সিটিতেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে দলটি। যার মধ্যে সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সব প্রার্থীর নাম একযোগে প্রকাশ করেনি দলটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকা পোস্ট-কে বলেন, ‘নতুন ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনেই আমাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার নাম প্রকাশ করা হবে।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে লড়লেও আসন্ন ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ‘স্থানীয় নির্বাচন হবে স্থানীয়ভাবেই’— এই নীতির ওপর ভিত্তি করে জোটবদ্ধ সমীকরণ এড়িয়ে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুপারিশে সব সিটিতে একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘স্থানীয় চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ‘স্থানীয় নির্বাচন হবে স্থানীয়ভাবেই’— এই কৌশলেই প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের নেতৃত্বে যে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে উঠেছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে কৌশলগত দূরত্ব তৈরির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই সেই জোট থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

ঢাকা উত্তর সিটিতে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জামায়াতের মেয়র প্রার্থী 

এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, খেলাফত মজলিস এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঐক্য ছিল মূলত একটি জাতীয় নির্বাচনী সমঝোতা, যা নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গেই কার্যকারিতা হারিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তারা বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।

অবশ্য জামায়াতে ইসলামী বিষয়টিকে জোট ভেঙে যাওয়া হিসেবে দেখতে নারাজ। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, জোটের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও নিজস্ব ভোটব্যাংক যাচাইয়ের লক্ষ্যে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অবস্থান নিয়েছে জামায়াত। তবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও কোথাও সমঝোতার সুযোগও খোলা রাখা হতে পারে।

জোটের সমীকরণে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে কি না— জানতে চাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঐক্য হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণে, যা জাতীয় ও বৃহত্তর স্বার্থে এখনও বিদ্যমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। জামায়াত দলীয়ভাবেই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শরিকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে আলোচনার পথ সব সময়ই খোলা আছে।’

এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মনে করেন, ‘সংসদ নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া উচিত। তবে, জামায়াত যদি একলা চলার সিদ্ধান্তেই অটল থাকে, এই নির্বাচনে জোটের সমীকরণ বজায় থাকবে না।’

১৩ সিটি কর্পোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী কারা?

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়ে ইতিহাস তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী। প্রথমবার অর্জিত এই বড় সাফল্যকে মাথায় রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই একক প্রার্থী দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে। দীর্ঘদিন মহানগর রাজনীতির হাল ধরা ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে কেন্দ্রীয় সংকেত পাওয়ার পরই মাঠপর্যায়ে তৎপর হতে দেখা গেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ কিংবা ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন তিনি।

যদিও সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা কিন্তু জোটের ভেতরের সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। কারণ, একই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এক সময়ের সহযোদ্ধা ও একই রাজনৈতিক বলয়ের দুই জনপ্রিয় তরুণ মুখের মুখোমুখি লড়াই স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি’র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয় হতে পারে।

চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনায় যথাক্রমে শামসুজ্জামান হেলালী, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও মিয়া গোলাম পরওয়ারকে টিকিট দিয়েছে জামায়াত 

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও বরিশালে প্রার্থী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক কাউন্সিলর। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকা এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার পরিচিতিকেই প্রার্থীর মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি।

অন্যদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে। এর মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নগরী বরিশালে স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত মুখ এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সামনে রেখে নির্বাচনী কৌশল সাজিয়েছে জামায়াত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী জামায়াত ঢাকার দুই সিটিতে কোনো ছাড় দেবে না। উত্তর সিটিতে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তবে, দক্ষিণে এনসিপির আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা জোটের সম্পর্কে নতুন পরীক্ষা তৈরি করতে পারে

খুলনায় মিয়া গোলাম পরওয়ার, রংপুরে আজম খান

খুলনা সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তাকে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী করার এই পরিকল্পনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই খুলনা মহানগরী ও আশপাশের অঞ্চলে রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মসূচিতে তার ধারাবাহিক অংশগ্রহণ সে পূর্বাভাষই দিচ্ছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের টিকিট পাচ্ছেন মহানগর আমির এটিএম আজম খান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জোটগত আসন সমঝোতার স্বার্থে তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। তবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে জামায়াতে ইসলামী।

রংপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের টিকিট পাচ্ছেন মহানগর আমির এটিএম আজম খান এবং রাজশাহীতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর  

শিল্পনগরী গাজীপুরে জামায়াতের তরুণ প্রার্থী

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ৬ মে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তার নাম ঘোষণা করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এর আগে গাজীপুর-৬ আসন থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় এলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় তখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী। আমরা নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা জোরদারের পাশাপাশি একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের যানজট, তীব্র জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য সংকটের টেকসই সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

গাজীপুরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করে চমক সৃষ্টি করেছে জামায়াত  

নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের বাজি আবদুল জব্বার

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে। গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুল জব্বার বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তরুণদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়েই বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে তাকে মেয়র পদে সামনে আনছে দলটি।

রাজশাহীতে পরিচিত মুখ ডা. জাহাঙ্গীর

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পদ্মাপাড়ের এই নগরীতে সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বহুমুখী সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের পছন্দে তাকে প্রার্থী করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার কথা জানানো হলেও সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেনি জামায়াত। তবে, স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রার্থীদের নাম প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোসলেহ উদ্দিনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট সিটিতে জেলা নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত বগুড়া সিটিতে জামায়াতের বাজি সাবেক জিএস আব্দুল মালেক

২১টি ওয়ার্ড নিয়ে নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই সিটিতে হেভিওয়েট ও স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত মুখ হিসেবে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে মনোনীত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনায় যথাক্রমে শামসুজ্জামান হেলালী, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতো কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রবীণ নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গাজীপুরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার এবং নবগঠিত বগুড়া সিটিতে সাবেক জিএস আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে প্রার্থী করে চমক সৃষ্টি করা হয়েছে

এ বিষয়ে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা দেশের সব স্তরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসন্ন বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’

তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে বগুড়া সিটিতে পুরো শক্তিতে লড়বে জামায়াত। মনোনীত প্রার্থী আ.খ.ম. আব্দুল মালেক বর্তমানে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এবং হাজরাদিঘী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি দারুস সুফ্ফা ট্রাস্ট ও আদর্শ স্কুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতৃত্ব রয়েছে। ফলে সর্বস্তরের নাগরিক সেবা ও তরুণদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান পাথেয় করেই নির্বাচনে নামছে দলটি।

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে কোনো ছাড় নয় : জামায়াত

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ৪টি আসন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এবং ১টি আসন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। বাকি ১০টি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬; এই ৬টি আসনেই জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি।

সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ছয়টি আসনে এমন ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অন্য কোনো দলকে ছাড় না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে জামায়াত।

এ বিষয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, ‘জোট গঠনের সময়েই এটি স্পষ্ট ছিল যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই একই সমীকরণ থাকবে— এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তবে, জোটের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো আলোচনায় বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়তো ১-২টি সিটিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠক বা আলোচনা হয়নি। তাই পরিষ্কার কথা হলো— ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’


এই বিভাগের আরো খবর