দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর শহরের কালিতলা নিউ মার্কেটে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বেশি দেখা গেছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে লিচুবোঝাই ভ্যান ও ইজিবাইক।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে মাদ্রাজি লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। বেদানার হাজার সাড়ে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার, চায়না-৩ সাত থেকে আট হাজার এবং বোম্বাই দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মহব্বতপুর এলাকার লিচু চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনছেন। যত্নসহকারে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি।
ক্রেতা মুশফিকুর রহমান জানান, বেদানা ৫০০ টাকা ও চায়না-৩ লিচু ৮০০ টাকা শতক হিসেবে কিনেছেন। গত বছর যথাক্রমে ৮০০ ও ১২০০ টাকায় কিনেছিলেন। এবার দাম কম পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
লিচুর আড়তদার আব্দুল্লাহ বলেন, দিনাজপুরে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়, মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়।
ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, বাগান থেকে বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার দুই হাজার ৪০০ টাকায় কিনে এনে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আমদানি বেশি হওয়ায় আজ দাম কমেছে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজার ৪১৮টি লিচু বাগান আছে। এর মধ্যে বোম্বাই তিন হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-৩ ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর ও মোজাফফরপুরী এক হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বসতবাড়ি ও বাগানে প্রায় সাত লাখ লিচুগাছ রয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক কারণে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও মানসম্মত হয়েছে। আকার, আকৃতি ও রং ভালো। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও বাজার বাড়ছে। চাষিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।







