রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

নির্বাচনী ট্রাক চলমান, এটা রোধ করার ক্ষমতা কারো নাই: মিলন

আপডেট : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন চালু হয়ে গেছে। এই ট্রেন কারো রোধ করার ক্ষমতা নাই। অনেকেই নির্বাচন বানচাল করতে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু জনগণ তাদের ঐ সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মুখিয়ে আছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। আজ পাবায় বিএনপির নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

সোমবার বিকেলে পবা উপজেলা বড়গাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বড়গাছী ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১দফা বাস্তবায়নের পক্ষে গণ সচেতনতা মূলক প্রচারণায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোট কেন্ত্রে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহনের লক্ষে কর্মী সভায় তিনি আরো বলেন, সব থেকে বড় কথা গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের দোসররা রয়েছে। তারা আবার দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এটা করে কোন লাভ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিলন বলেন, বিগত সতের বছরে কেউ ভোট দিতে পারেনি। এবারে ভোট দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এবার সবাই নিজের ভোট নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দেবেন এবং একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করবেন। তিনি বলেন, দল পবা-মোহনবাসীর খেদমতে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি নির্বাচত হলে পবা-মোহনপুরের রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করনেন। সেইসাথে বেকার সমস্যা দূরীকরণে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নের দিকে নজর দেবেন। তিনি বলেন, একটি দল পেয়ার পেয়ার করে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিলো, এখন কিন্তু এটা আর বলছে না। এখন বলছে গণভোট, একবার বলছে সংস্কার। ঐ দলটি এক সময়ে বিএনপির সাথে ছিলো। কিন্তু নির্বাচন যখন আসে তখন তারা প্রতিবারই পল্টি মারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের সময়ে ভারতে পক্ষ নিয়েছিলো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেম পাকিস্তান যুদ্ধেও সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো। ১৯৮৬ সালে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জামায়াত যখন একসাথে স্বৈরাচার এরশাদকে বিতারিত করতে আন্দোলন করছিলো, ঠিক তখনি চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে শেখ হাসিনা বলেছিলেন এরশাদের সাথে যে নির্বাচন সে হবে জাতীয় বৈইমান আর জামায়াতের আমির গোলাম আজম বলেছিলেন জাতীয় মোনাফেক হবে। এখন জাতীয় বৈইমান পালিয়ে গেলেও জাতীয় মোনাফেক এখন দেশে থেকে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। দাড়িপাল্লায় ভোট দিঔেন বেহেস্ত কনফার্ম বলে মিথ্যাচার করছে। এই মোনাফেক দল থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহŸান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া অণ্যায়ের সাথে আপোষ না করায় তিনি আপাষহীন নেত্রী হিসেবে বিশে^ পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী, দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছিলেন। ২৩টি আসনে নির্বাচন করে সকল স্থানেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন করছেন। আর তারেক রহমান বগুড়ার একটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন। সেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় কারাগারে রেখেছিলো। তাঁকে তার সন্তানদের নিয়ে দেশ থেকে চলে যেতে বলেছিলো সেই সরকার। কিন্তু দেশের ও দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে ও ভালবেসে তিনি দেশ ছাড়েননি। জীবনবাজী রেখে তিনি এখনো দেশে আছেন।
মিলন বলেন, সে সসময়ে তাঁর দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছিলো। এরপর তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেও আরাফাত রহমান কোকো আর জীবিত দেশে ফিরতে পারেনি। তিনি বিদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তারেক রহমান এখনো লন্ডনে আছেন। দ্রæত সময়ের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন উল্লেখ করে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা এবং বেহেস্তের টিকিট বিক্রির নামে যেন মোনাফেকরা কোন ষড়যন্ত্র ও জনগণকে ধোকা দিতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখার আহŸান জানান তিনি।
১নং ওয়ার্য বিএনপির সভাপতি শামসুল মন্ডল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতনওে সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম মাস্টার, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধুরইল ইউ.পি সাবেক চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দীন সরকার, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সবাপতি মকবুল হোসেন, বিএনপি নেতা আলহাজ¦ আব্দুর রহমান, আব্দুল খালেক, জালাল উদ্দিন, মোজাফ্ফর হোসেন , আজাহার আলী, ফারুক হোসেন, মাইনুল ইসলাম, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক রাহানুদদেলৈা পান্না, রহিদুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন ভিকু ও আশরাফ আলী, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহŸায়ক কে.এইচ রানা শেখ, সদস্য ফরিদুল ইসলাম, বাবর আলী, মুরাদ হোসেন, দিলদার হোসেন সেন্টু, বড়গাছী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম, কৃষকদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক তনু ও মিনারুল ইসলাম এবং পবা উপজেরা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ। এছাড়াও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর