রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ ঠেকানো বাস্তবে কতটা সম্ভব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিউজ
আপডেট : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

নির্বাচনে বিজেপির জয়ের মূল ভিত্তিই ছিল ১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূলের এই চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেই একই সিন্ডিকেট চক্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক সায়ন্তন ঘোষ জানান, বিজেপি কোনও শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে জেতেনি, বরং এটি ছিল একধরনের তৃণমূল-বিরোধী তরঙ্গ। ফলে কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা ও পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসন চালাতে এখন বিজেপির স্থানীয় মাতব্বর ও তাদের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তার মতে, দলটি ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া তৃণমূল’মডেলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে এবং নিজেদের ‘তৃণমূলীকরণ’ মেনে নিচ্ছে।

এক মাসে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

  • ১৪ আগস্ট: চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে তুফানগঞ্জের বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ তালুকদার গ্রেফতার হন।
  • ১০ আগস্ট: কেশবানন্দ মহারাজ নামের এক সাধু অভিযোগ করেন, বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র গত মার্চ থেকে তার সম্পত্তি দখল করে আছেন এবং ঠিকমতো ভাড়া দিচ্ছেন না।
  • ৯ আগস্ট: দক্ষিণ দমদমে এক প্রমোটর অভিযোগ করেন, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুষ্কৃতীরা পিস্তলের বাট দিয়ে তাকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
  • ৮ আগস্ট: ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের এক কর্মচারীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি এবং তা না দেওয়ায় তাকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
  • ৬ আগস্ট: বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক প্রমোটরের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চার বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
  • ৫ আগস্ট: পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় বালি বোঝাই ট্রাক থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগে বিজেপি নেতা রাকেশ মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়।
  • ৩০ জুলাই: যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্মিলা মুখার্জির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান দখলের সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।

অপরাধ ঠেকাতে দলের পদক্ষেপ

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। ১০ আগস্ট তোলাবাজি ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রায় ৩০০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বীকার করেছেন যে, দল ক্ষমতায় আসলেও চাঁদাবাজি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। সিন্ডিকেটের সহজ অর্থের লোভে কিছু লোক দলে ঢুকে পড়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি দলীয় বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এমন কোনও কাজ করা যাবে না যাতে মানুষ বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের কোনও তফাত খুঁজে না পায়। অন্যদিকে রাজ্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, চাঁদাবাজিতে জড়িত নেতাকর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে না।  সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


এই বিভাগের আরো খবর