সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত সরকারের সময়েও মব সংস্কৃতি বন্ধ না হওয়াটা দুঃখজনক : এবি পার্টি

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নয়; রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক লোক রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাবে এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে- এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।

তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জমি নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো লিজ বা মালিকানার দাবি কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা দখলের বৈধতা দেয় না। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হবে। রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনায় কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। গণমাধ্যমে কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

একই সঙ্গে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

অধ্যাপক ওহাব মিনার ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল ও অসহায় মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখানোর বিষয় নয়। যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলবল নিয়ে হাসপাতাল ভাঙে, সরকারি টিকা লুট করে এবং জবরদখলের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের শক্তি প্রমাণ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে জমি দখল, মব সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আইনকে প্রতিস্থাপন করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে পারে না। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা অবিলম্বে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


এই বিভাগের আরো খবর