রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

ফেসবুক পোস্টের কারণে হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর পাশাপাশি রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্বও সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে তদন্ত প্রতিবেদন পড়ে শোনান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব (সহ-সভাপতি, রাবি ছাত্রদল), বিশাল চক্রবর্তী (রাবি ছাত্রদল কর্মী), হাসিবুল হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাবি ছাত্রদল) ও আরিফুল ইসলাম (জিয়া হল সংসদের জিএস)-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ পরিবহন মার্কেটে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, ‘ফেসবুকে একটা পোস্ট করাই ছিল আমার অপরাধ! ছাত্রদল সারাদিন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। সালাউদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার কাউন্টার হিসেবে একটা পোস্ট দিয়েছি।’

তিনি আরও লিখেন, ‘তার জন্য তারা দেশীয় অস্ত্র—চাপাতি, রামদা, জিআই পাইপ—নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আমাকে না পেয়ে আমার রুম ভাঙচুর করা হয়। নির্মমভাবে সাংবাদিকদের পেটানো হয়। ওই দিন যদি আমাকে পেত, তাহলে বেঁচে থাকতাম কি না, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, ‘আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার ছাত্রত্ব বাতিল করল। সেইম রাবি প্রশাসন। এটাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারব্যবস্থা। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা।’

প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা ও দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনে চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর