ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলাকে একটি ‘সন্ত্রাসী ও বর্ণবাদী আক্রমণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এটিকে প্রজাতন্ত্র ও জাতির জীবনে এক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
হামলায় পেঙ্গো বাসিসিও ওয়াঙ্গি নামে এক তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মাথায় হিজাব পরিহিত এক নারী এবং ১২ বছর বয়সী এক উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত শিশু রয়েছে। শিশুটির মা ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএল-কে জানান, তার মেয়েকে লক্ষ্য করে আটটি গুলি করা হয়েছে এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় তার অস্ত্রোপচার চলছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ নিশ্চিত করেছেন যে, এটি সুস্পষ্টভাবে একটি সন্ত্রাসী অপরাধ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে হামলাকারী কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। ইতোমধ্যে তার এক নিকটাত্মীয়কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রাপেসের মেয়র আলী রাবে এটিকে একটি বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষ হামলা উল্লেখ করে বলেন, উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমাগত মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণাই এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইইউ ফান্ডামেন্টাল রাইটস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও ঘৃণামূলক অপরাধ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরোপের প্রতি দুইজন কোনেও না কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার হন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও কাউন্সিল অন আমেরিকান-ই ইসলামিক রিলেশন্স ফ্রান্সে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।







