সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে চিনির সাথে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খেজুর গুড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট
আপডেট : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫

রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা অঞ্চলের খেজুর গুড়ের আলাদা একটা খ্যাতি দেশজুড়ে। তাই শীতের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে শুরু হয় ঘরে ঘরে গুড় তৈরির ধুম। এবারও অগ্রহায়ণের শুরু থেকেই জেলার চারঘাট ও বাঘা অঞ্চলে পড়েছে গুড় তৈরির হিড়িক। নবান্নের অন্যতম অনুষঙ্গ হওয়ায় গ্রামীণ ঐতিহ্যে গুড়ের কদর সর্বজনীন। তাই মৌসুম জুড়েই রমরমা থাকে খেজুর গুড়ের কারবার। তবে ক্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে এখন সুস্বাদু এ গুড়ে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রং, ফিটকিরি, হাইডোজ, ডাল্ডা, ভারত থেকে আসা এক ধরণের আখের গুড়সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল। গুড়ের অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদ আর ওজন বাড়াতে মেশানো হচ্ছে কম দামের চিনি। ১১৮ টাকা কেজি দরের চিনি খেজুর গুড়ে রূপান্তরিত হয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। চিনি, ক্ষতিকর রং, ফিটকিরি, হাইডোজ, ডাল্ডা ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির মহোৎসব চললেও তা তৈরি ও বিক্রি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোন পদক্ষেপ। ফলে দিনে দিনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু চক্র। অতিরিক্ত লাভের আশায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীর কবলে পড়ে একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি অন্যদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি থাকায় এবং বেশি লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলার হাট-বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা। পরে এসব ভেজাল গুড় ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। খেজুরের রস সংগ্রহ শুরুর আগ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় ভেজাল গুড় তৈরি অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চারঘাট ও বাঘার বিভিন্ন বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে এসব ভেজাল গুড়। এমনকি বাজার থেকে পুরাতন গুড় কিনে বাড়িতে এনে ভাল করে জাল দিয়ে তার সঙ্গেও চিনি, হাইডোজ এবং রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য দিকে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্ভেজাল খেজুর গুড়ের নিশ্চয়তা দিয়ে অনলাইনে চালাচ্ছেন প্রতারনা। গুড়ের রং উজ্জ্বল করতে মেশানো হচ্ছে হাইডোজ ও ফিটকিরিসহ ক্ষতিকর রং। আর সেই গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। এভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোক্তারা।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আতিকুল হক বলেন, ভেজাল গুড় তৈরির সব উপাদানই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো থাকায় তা আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এ ধরনের ভেজাল গুড় খেলে কলেরা, ডায়রিয়া, হজম শক্তি হ্রাসসহ পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। তাছাড়া খেজুর গুড়ে চিনি মেশানো হলে তাতে এ্যালকোহল থাকায় ঝিঁমুনি ভাব দেখা দেবে। এছাড়া কিডনি ও লিভারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খেজুর গুড়ে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ স্বীকার করে চারঘাট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরিফ হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার কোথাও ভেজাল খাদ্য তৈরী করতে দেয়া হবে না। যেখানেই সংবাদ পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান চালিয়ে আইনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


এই বিভাগের আরো খবর