সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী স্টেশনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও রেলপথ অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে বেধড়ক মারধর ও হেনস্তার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও রেলপথ অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সাথে দেশের সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীকে আশংকজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ রেলওয়ে নিরাপত্তা রক্ষিকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে রেল কর্র্তৃপক্ষ।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট চেকিংয়ের সমায় ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাথে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মী (আনসার সদস্য) ও কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আনসার ও কর্মচারীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী এর প্রতিবাদ করল আনসার সদস্য ও রেলওয়ে কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে আইয়ুবের ওপর চড়াও হন এবং তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর শারীরিক আঘাতে আইয়ুব আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার সংবাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রেলপথ অবরোধ করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। শিক্ষার্থীদের দাবী বাস্তবায়নে গড়িমশি করলে রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঠা নিয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালায় এবং হামলাকারী ও কর্মচারীদের খুজজে থাকে। তাদের না পেয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

সংবাদ পেয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের রেলওয়ের সম্পদ ভাংচুর না করে শান্ত হওয়ার আহবান জানান। অবরোধ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে রাত থেকে ঢাকাসহ সকল রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো সাধারণ যাত্রী।

শিক্ষার্থীরা জানান, হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের এভাবে পশুর মতো মারধর করা অগ্রহণযোগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের গায়ে হাত দেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না’—জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানিয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবির সদস্যরা হলেন মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন। এদিকে রাতে  প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন


এই বিভাগের আরো খবর