সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

আইপিএল-এ টাইগারদের না কেনার আসল কারণ

স্পোর্টস ডেস্ক :
আপডেট : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৫-এর মৌসুমে কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটার থাকছেন না। ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম আইপিএলের অংশ হচ্ছেন না কোনও বাংলাদেশের ক্রিকেটার।বাংলাদেশের ১৩ ক্রিকেটারের নাম আইপিএলের আসন্ন সিজনের নিলামের জন্য নিবন্ধিত থাকলেও, তাদের নামে কেউ ‘বিড’ করেননি বা বুলি লাগাননি।এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে এই পরিস্থিতিতে আইপিএলে কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেট খেলোয়াড়ের বিড না হওয়ার বিষয়টাকে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে কেউ কেউ জুড়ছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দক্ষিণপন্থী মতাদর্শী কিছু ব্যক্তি আবার এই পুরো বিষয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের যোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

বিড না করার সম্ভাব্য কারণ

আইপিএলের আসন্ন মৌসুমে নিলামের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন বাংলাদেশের ১৩ জন ক্রিকেটার। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে যে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা শর্টলিস্ট হয়েছিলেন তারা হলেন- রিশাদ হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু এই দুই খেলোয়াড়ের জন্য আইপিএলের কোনও দলকেই বিড করতে দেখা যায়নি।আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদ হোসেন ভালো পারফর্ম করেছিলেন এবং তার ঝুলিতে ছিল ১৪টি উইকেট। এই পারফরম্যান্সের পর তিনি নজর কাড়লেও, ভারতের সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজে তেমন ভালো পারফর্ম করতে পারেননি। তিনটি মাত্র উইকেট নিয়েছিলেন।আইপিএল ২০২৫-এর জন্য নিলামে হয়তো তার সেই পারফরম্যান্সই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য আইপিএলের নিলামে বিড না হওয়ার বিষয়টা অনেকের কাছে চমকপ্রদ। ইতোমধ্যে আইপিএলের সাতটা মৌসুমে খেলেছেন তিনি। পাঁচটা ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে পারফর্ম করেছেন।আইপিএলের আগের মৌসুমে ‘চেন্নাই সুপারকিংস’-এর হয়ে খেলেছিলেন এবং নয় ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।আইপিএলের এবারের নিলামে তার ‘বেস প্রাইস’ ছিল দুই কোটি টাকা কিন্তু কেউই তার জন্য বিড করেননি।

মোস্তাফিজুর রহমানের ‘ভাগ্য সহায় হয়নি’- এমনটাও মনে করছেন অনেকে। কারণ আইপিএল ২০২৫-এর নিলামের দ্বিতীয় দিনে তার নাম এসেছিল। এদিকে, ততক্ষণে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ঝুলি খালি হয়ে এসেছে। এর পাশাপাশি, আইপিএল ২০২৪ চলাকালীন মাঝপথেই তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে, যা তার বিপক্ষে গিয়েছে।

আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

দীর্ঘদিন ধরেই আইপিএলের অংশ ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তবে, গত বছর মিনি নিলামে কোনও টিম তার জন্য বিড করেনি। আইপিএলের আসন্ন সিজনে কিন্তু তার নাম শর্টলিস্টও করা হয়নি।বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটার আইপিএলের আসন্ন সিজনে স্থান না পেলেও এবারের নিলামে আধিপত্য ছিল আফগান খেলোয়াড়দের।প্রসঙ্গত, সফরের শুরু থেকেই আইপিএলের অংশ হিসাবে থেকেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে আফগানিস্তান আইসিসির সদস্যও ছিল না।আইপিএলের ১৮তম মৌসুমে কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এদিকে, আফগানিস্তানের সাতজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে ২০২৫-এর আইপিএলের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

কীসের ইঙ্গিত?

আইপিএলের আগামী মৌসুমে কোনও বাংলাদেশি খেলোয়াড় না থাকাটা ইঙ্গিত দেয় যে তারা তারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পিছিয়ে আছে। আইপিএলের কোনও টিমে স্থান না পাওয়ার সঙ্গে খেলোয়াড়ের দক্ষতার সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম।তার মতে, প্রাথমিকভাবে খেলোয়াড়ের দক্ষতাকেই আইপিএলে প্রাধান্য দেওয়া হয়।নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার দক্ষতা রয়েছে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের। সেই কারণেই আইপিএলে তারা প্রাধান্য পেয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর