সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

খালি পড়ে আছে ৯ কোটি টাকায় তৈরি ভবন, চলে সিনেমার শুটিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীতে পবা সরকারি শিশু পরিবার (বালক) প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশে পাঁচতলা ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হয় তিনতলা ভবন। ১৬২১ বর্গমিটার আয়তনের ভবনটিতে ২৫ জন প্রবীণের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে লিফট, অভ্যর্থনা ও দর্শনার্থী কক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা কর্নার, বসার স্থান, বিনোদন ও শরীরচর্চার সরঞ্জাম, প্রার্থনাকক্ষ, প্রশিক্ষণ কর্নার, উৎপাদন ইউনিট ও কফি কর্নার। কাগজে-কলমে সবই প্রস্তুত। শুধু নেই প্রবীণদের থাকার ব্যবস্থা।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। কোথাও দেয়ালে শেওলা ধরেছে। পড়ে থাকা আসবাব ও সরঞ্জামও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—যে ভবন প্রবীণদের জন্য নির্মাণ করা হলো, সেটি চালু করার আগেই কেন জনবল ও পরিচালন কাঠামোর ব্যবস্থা করা হলো না?

রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, শান্তিনিবাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এমনকি জনবল নিয়োগের জন্য অর্গানোগ্রামও তৈরি হয়নি। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোনও প্রবীণকে সেখানে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।

অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—পরিচালনা ও সেবা কার্যক্রম থেকে গেছে অনিশ্চয়তায়।

শান্তিনিবাস নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতরের তৎকালীন উপপরিচালক সাদিকুল হক। বর্তমানে তিনি অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য জানতে কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রকল্প চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করাও পরিকল্পনার অংশ। এসব না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ে।

প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজনীয়তা যখন বাড়ছে, তখন সেই উদ্দেশ্যে নির্মিত কোটি টাকার ভবন তিন বছর ধরে পড়ে থাকা শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতার প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্প পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রবীণদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত ৯ কোটি টাকার শান্তিনিবাস যদি তিন বছরেও চালু না হয়, তাহলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কি পরিচালনার বিষয়টি আদৌ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? আর যাদের শেষ জীবনের নিরাপদ আশ্রয়ের কথা ভেবে এত আয়োজন, তাদের জন্য শান্তিনিবাসের দরজা খুলবে কবে?


এই বিভাগের আরো খবর