গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিলেন, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। ফলে তাদের এই সাম্প্রতিক আলাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও একটি প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে নতুন একটি ছদ্মনামে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
ফোনালাপ শেষ করেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন। নতুন হামলার ইঙ্গিত দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই হামলা শুরু হতে পারে। অন্য একটি প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে ‘সিচুয়েশন রুম’-এ একটি বৈঠক করবেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন, অন্যথায় এর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরানও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তবে ব্রিকস বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়ে বলেছেন, সামরিক শক্তির কোনও শেষ নেই এবং কেবল আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আনা সম্ভব।
রবিবার (১৭ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছু মূল শর্ত নির্ধারণ করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তাদের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করে, মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখে এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এই শর্ত মেনে নেয়। ইরান এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আলোচনার জন্য নিজেদের শর্তজুড়ে দিয়েছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ করা সম্পদ মুক্ত করা, ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া। সূত্র: উইয়ন নিউজ







