শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ,মুহূর্তে গ্রাস করে শত শত মানুষকে, নিহত বেড়ে ৯৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিউজ
আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

আকস্মিক এ বন্যায় নেপালের রাসুয়া জেলা, পার্শ্ববর্তী সায়াফুরবেশি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেছে।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন সেখানকার লেন্দে নামে একটি নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পানি আর স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে না এসে জমতে থাকে। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে যখন আকস্মিক বন্যার পানি নেপালে নেমে আসে; তখন তিব্বতে একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই ভূমিকম্পের কারণে বরফ নড়ে যায় এবং লেন্দে নদীর পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদী দিয়ে নিমে নেমে আসে।

কান্তিপুর টিভিকে এ জলবায়ু গবেষক আরও বলেছেন, চীনের বিজ্ঞানীরা তাদের প্রাথমিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে একটি বরফ ধসের তথ্য এসেছে। যেটি নেপাল প্রান্তে ঘটে এবং লেন্দে নদীকে আটকে দেয়। ওই সময় তিব্বতে একটি ভূমিকম্পও হয়।”

বরফধস এবং রাবিশ জমে নদীতে তৈরি হয় একটি কৃত্রিম লেক। যেখানে পানি নিচে গড়িয়ে চলে আসার কথা ছিল। সেখানে রাবিশ ও বরফের কারণে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে নদীর উপরিভাগে জমতে থাকে পানি। যা আজ বুধবার হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হয়। এরফলে ওই রাবিশ ও পানি একসঙ্গে নেমে আসে। এতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঝরে গেছে শতাধিক প্রাণ। এছাড়া এখনো আরও চারশরও বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন।

তিনি আরও বলেছেন, তারা অস্থায়ী লেক তৈরি হওয়ার আগে ও পরের ছবি দেখেছেন। তিনি বলেন, “সেখানে বরফধস এবং ভূমিধসও দেখা গেছে। বরফ এবং রাবিশের একটি লেক তৈরি হয়। যা পরে বিস্ফোরিত হয়। সেখানে একটি বাধ তৈরি হয়েছিল।”

এরআগে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর বলেছিলেন, নদীতে বরফধসের কারণে পানি আটকে যায়। যা একসঙ্গে আজ বুধবার নদীর নিচের ভাগে নেমে আসে। তিনি আজ তিব্বতে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের কথাও বলেছেন। তার ধারণা, ওই ভূমিকম্পের কারণে হয়ত আকস্মিকভাবে সব পানি নেমে আসে।


এই বিভাগের আরো খবর