নিকোলাস ওতামেন্ডির শটটা জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়লো পুরো গ্যালারি। উল্লাসে ফেটে পড়লেন লিওনেল মেসি। আরেকবার বীরত্ব দেখালেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তাঁর টানা দুই সেভে ভর করে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে পা রাখলো আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ালো বেশ। প্রথমার্ধে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারলো না ইকুয়েডর। ম্যাচ যখন উন্মাদনার তুঙ্গে, ঠিক তখনই শেষের দিকে দারুণ এক গোল করে ম্যাচ সমতায় নিয়ে আসেন ইকুয়েডরের কেভিন রুদ্রিগেজ।
আগেই জানা গিয়েছিল, কোপার এবারের আসরে কোয়ার্টার ও সেমি-ফাইনালে থাকছে না কোনো অতিরিক্ত সময়। ফলে ম্যাচ গড়ালো টাইব্রেকারে। তাতে আরেকবার অভিজ্ঞতার ভেলকি দেখালেন মার্টিনেজ।
ইকুয়েডরের মিসের বিপরীতে টানা চার শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন জুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, গনজালো মন্টিয়েল ও ওতামেন্ডি। তাতে একটি শট বাকি থাকতেই উল্লাসে মেতে ওঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরুতেই বল নিজেদের দখলে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তাতে ৫১ শতাংশ সময় বল ছিল মেসিদের পায়ে। তবে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে বেশি শট নেওয়ার সুযোগ পায়নি স্কালোনির দল। মাত্র ৮টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রেখে ১ গোল আদায় করে নেয় তারা। বিপরীতে ৪৯ শতাংশ বল পায়ে রেখে ৯টি শট নিয়ে ১টি গোল পায় ইকুয়েডর।
আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও প্রথম আক্রমণ করে ইকুয়েডর। ম্যাচের পঞ্চাদশ মিনিটে ময়েসেজ কালসেডোর বাড়ানো পাসে জেরেমি সারমিয়েন্তোর রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পরক্ষণেই লক্ষ্যভেদ হয় কেন্দ্রি পায়েজের আরেকটি শট।
অবশেষে ৩৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে বল উড়িয়ে দিয়েছিলেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতরেই মাথা ছুঁইয়ে সেটার দিক বদলে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। একদম মোক্ষম জায়গায় বল পেয়ে মাথার আলতো ছোঁয়ায় জাল খুঁজে নেন লিসান্দ্রো। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ঠেকাতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে দেন রুদ্রিগো ডি পল। রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন ইকুয়েডর অধিনায়ক ইনার ভ্যালেন্সিয়া। তার নেওয়া শট গোলপোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর এলোমেলো হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এই সুযোগেই একের পর এক আক্রমণ করে যায় ইকুয়েডর। ফলাফল তারা পায় ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। ৯১ মিনিটের মাথায় মিন্দার ক্রসে মাথা ছুইয়ে আর্জেন্টিনাকে ভয় পাইয়ে দেয়া গোলটি করেন জর্দি কাইসেডো।