সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় মামলা নেইনি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহী রহমান সিড কোল্ড স্টোরেজে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা দুই দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি। অথচ সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তদন্তের নামে পুলিশ কালক্ষেপন করছে বলে অভিযোগ করেছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ এ্যাসিশিয়েশন।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে কোল্ড স্টোরেজ এ্যাসিশিয়েশন নেতারা জানান,

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চলতি বছরের ৩১ আগস্ট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে (প্রজ্ঞাপন নং-৩৪) কোল্ড স্টোরেজে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী রাজশাহীর ৪০টি কোল্ড স্টোরেজ আলুর ভাড়া আদায় করছে। মঙ্গলবার রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানাধীন দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার আব্দুল হালিম সরকার নির্ধারিত ছয় টাকা কেজি দরে বস্তা হিসেবে ওজন করে প্যার্টদের আলু ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। হঠাৎ বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে বহিরাগত বারইপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আহাদ আলী (৫৫), তকিপুর গ্রামের আনিসের ছেলে শমসের আলী (৪০), তানোরের কালনা গ্রামের আরফান আলীর ছেলে মোজাহার আলী (৩৮), মোহনপুরের নওপাড়া গ্রামের মৃত রফিকের ছেলে বাবুল (৩৮), তকিপুর গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আনারুল ওরফে আনাসহ (৩৮) ৩০/৩৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী বেআইনীভাবে রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের অফিস রুমে উপস্থিত হয়ে ম্যানেজারকে খোঁজাখুঁজি করে। তারা তাকে না পেয়ে ডেলিভারি অর্ডার অফিসার আজিজুর রহমানকে জোর করে সরকারি রেট ৬ টাকা কেজির বদলে ৫ টাকা রেটে ডিও কাটতে চাপ দেয়। এতে রাজি না হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা হিসাবরক্ষক রায়হান রানাকে বেধড়ক কিল-ঘুষি, লাথি মারে। তাকে বাঁচাতে লেবার সালাউদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক কিল-ঘুষি, লাথি মারে। এছাড়া মারধরের শিকার হন সহকারী ম্যানেজার আজিজুর রহমান। পরবর্তীতে আসামীরা অন্যান্য স্টাফদেরকে বেধড়ক
কিল-ঘুষি, লাথি মারে ও অফিস রুমের চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটারসহ ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ও ম্যানেজারের টেবিল ভাংচুর করে। তাতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা স্টোরেজের ভেতরে ঢুকে পড়ে আলুর বস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা কোল্ড স্টোরেজের স্টাফদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, একটা স্বার্থান্বেসী মহল কোল্ড স্টোরেজের জন্য সরকার নির্ধারিত ভাড়াও দিতে চাচ্ছে না। তারা নানাভাবে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। এমনকি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

এ অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মালিকপক্ষের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ব্যাপারে ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো মামলাটি নথিভুক্ত করেনি। তদন্তর নামে কালক্ষেপন করছে তারা। পুলিশের কাছে কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের দাবি পুলিশ অতি দ্রুত যেন হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনে। পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজগুলোর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তা না হলে আলু সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। একইসাথে রাজশাহীর কোল্ড ৪০টি কোল্ড স্টোরেজের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিং-কর্মচারীরা কর্মহীন হবে এবং কোল্ড স্টোরেজ শিল্প ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।


এই বিভাগের আরো খবর