সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে পশুর হাটে নজর কাড়ছে বড়মিয়া ছোট মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পশুর হাট জুড়ে অসংখ্য গরু। বিভিন্ন রঙ ও আকারের গরুর ভিড়ের মাঝেই আলাদা করে নজর কাড়ছে দুটি গরু। একটির বিশাল দেহ আর অন্যটির ছোটখাটো গঠনের। এই দুটি গরুকে ঘিরেই  হাটজুড়ে এখন চলছে আলোচনা। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে বিকেল চারটা পর্যন্ত দুটির একটিও বিক্রি হয়নি। গরুটি প্রকৃত নাম না জেনেই হাটে আসা ক্রেতারা নাম দিয়েছে বড় মিয়া ছোট মিয়া। 

সাদা-কালো রঙের বিশাল আকৃতির ফিজিয়াম জাতের গরুটি নিয়ে এসেছেন জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া এলাকার আবদুর শরিফুল। প্রায় ১৩ মণের এই গরুটি দেখতে হাটে আসা মানুষজন ভিড় করছেন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার গরুটির খাবার ও পরিচর্যার গল্প শুনছেন মালিকের মুখে। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা।

আবদুর শরিফুল বলেন, গরুটি আমারও কেনা। তাই তার নাম জানে নেই। হাটের সবচেয়ে বড় গরু এটি। দুইজন দাম বলেছে। তেমন কেউ দাম করার সাহস করছে না। বড় গরুর একই একটা মজা। দেখি এখানে বিক্রি না হলে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। তবে চাইবো রাজশাহীর হাটগুলোতেই বিক্রি করা। এখানে বিক্রি না হলে আগামীকাল রোববার সিটি হাটে নিয়ে যাব।

অনেকেই বড় গরুর পাশে দাঁড়ানো ছোট গরুটিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। ছোট গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

হাটে আসা রজব আলী, সোহেল আলী বলছেন, একই স্থানে সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট গরুকে পাশাপাশি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বানশ্বর হাটে যেন অন্যরকম উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

বদিউজ্জামান বলেন, তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ার কারণে তিনি বিভিন্ন হাটে গরু তুলছেন। এসব হাটে গরু বিক্রি না হলে বিকল্প ঢাকায় নিয়ে যাতে হবে।

বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি হলেও ব্যতিক্রমী আকারের গরুগুলোই মানুষের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই বানশ্বর হাটের এই দুই গরু এখন সবার আলোচনায়।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ৮০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুগুলো বেশি কেনাবেচা হচ্ছে। তবে, হাটের গরু বিক্রির খাজনা নিয়ে অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাটটিতে গরু কিনলে ৮০০ টাকা। আর বিক্রি করলে ২০০ টাকা খাজনা দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন কোনো মন্তব্য করেননি। তারা বলছেন- কাটাখালি পশু হাটেও গরুর খাজনা ১ হাজার টাকা। তবে কাটাখালি হাটে খোঁজ নিয়ে মিলেছে সত্যতা।

বানেশ্বর হাটে আশেপাশের জেলা থেকে গরু কেনাবেচার জন্য নিয়ে এসেছেন অনেকেই। হাটে জাল নোট শনাক্তের মেশিন আনা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন। ক্রেতা-বিক্রতারা জানায়, তুলানামূলক বিকেলের দিকে কেনাকাটা জমেছে।

হাট কর্তৃপক্ষ বলছে, হাটে পর্যাপ্ত বিভিন্ন দামের গরু রয়েছে। ক্রেতা বিক্রেতারা দামাদামি করে গরু কিনছেন। হাটের পরিবেশ অনেক ভালো। আসা করা হচ্ছে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে কেনাকাটা। তার পরেও ক্রেতা বিক্রেতা থাকলে আমরা থাকব।


এই বিভাগের আরো খবর