রাজশাহীর চারঘাটে মৃত্যুর আগে ফেসবুকে লাইভ কষ্টের কথা জানিয়ে আত্মহত্যার করেছে এক গৃহবধু। এঘটনায় ঈদের আনন্দ মূহুর্তে বিষাদে রূপ নেয়। ভিডিও প্রকাশের কিছুক্ষন পর মঙ্গলবার ভোর আত্মহত্যা করে রহিমা আক্তার (রেমি) নামের ওই গৃহবধু। মৃত রেমি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নিমতলা মন্ডল পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে, এবং পুঠিয়া উপজেলার কাঠালবাড়িয়া এলাকার সায়েম আক্তার সাগরের স্ত্রী। ওই ঘটনায় পুঠিয়ার নিমতলা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রমির স্বামী সায়েম আহম্মেদ সাগর ইনসেপ্টা নামের একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকরির সুবাদে রাজশাহী জেলার চারঘাট বাজারের সন্নিকটে ফকির মেলেটারির মোড়ে বাসা মালিক আলী আজমের ২য় তলায় তারা ভাড়া থাকতেন এই দম্পতি। সেখানে তাদের বেডরুমের বেলকনির সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস নেন রেমি।
এর আগে নিহত রেমি ফেসবুক লাইভে এসে তাদের পারিবারিক কলহের কথা তুলে ধরে। রেমি তার পোস্ট করা ভিডিওতে বলেন, আমি একটি বই লিখতে শুরু করেছিলাম। বইয়ের নাম রাখতে চেয়েছিলাম সুইসাইড। বই লেখা শেষ না করতেই আমি নিজেই সুইসাইড হয়ে গেলাম। বাবা মা খারাপ হলে কিন্তু সন্তানরা খারাপ হয় না। এসব কথা শুনতে শুনতে বোর হয়ে গেছি। জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিতে চাই। রেমি তার ভিডিওতে এমনটাই বলছিলেন। দীর্ঘ ২৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডর ভিডিওটিতে বিয়ের পর তাবে যে নানা ভাবি মানষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তা তুলে ধরেন।
রেমির বাবা জানান, গতকাল ১৭ জুন আমার মেয়ে ও জামাই আমার বাড়িতে এসে ঈদের দিন খাওয়া দাওয়া করে তারপর দুপুরের পরে বাড়ি ফিরে যায়। আমার মেয়ে এরপর আমি শুনতে পাই আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে পারিবারিক মনমালিন্য হয়। পরে আমার জামাই ও মেয়ে চারঘাট ভাড়া বাসায় চলে যায়। ১৮ জুন ভোরবেলা আমার জামাই আমার ছেলের কাছে ফোন দিয়ে মৃত্যুর খবর দেয়।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।