সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার ভারত থেকে দেশে আসার কোন সুযোগ নাই : মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, এই দেশ ভূটান, সিকিম কিংবা পূর্ব তিমুর নয়, এই দেশ শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ। যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন শেখ হাসিনার ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার কোন সুযোগ নাই। বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর ও জেলা রাজশাহী জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে যারা গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর গুলি করে দুই ছাত্র হত্যা করেছে তাদের সকলকেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের দল। এই দল কখনো জনগণের সাথে প্রতারণা বা বেইমানী করেনা। অতীতে ক্ষমতায় থাকতে জনগণের সেবা করে গেছে। এরপর দীর্ঘ পনের বছরে ক্ষমতার বাহিরে থাকলেও জনগণের পাশে ছিলো বিএনপি। যার প্রমান এই র‌্যালি। র‌্যালি হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ উপস্থিত হয়েছে। এই র‌্যালি সমাবেশে রাস্তা এবং সমাবেশস্থল পা রাখার জায়গা ছিলো না। শত বাধা, নির্যাতন, খুন, গুম, জেল জরিমানা, ও মিথ্যা মামলা জর্জিত হয়ে কেউ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন ছেড়ে চলে যায়নি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, রাসিক সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার ঘোষক, গণতন্ত্রের পুরোধা ও বাঙলাদশের উন্নয়নের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন বলে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে ধাপিত হয়েছিলো এবং বহু দেশের নিকট স্বীকৃতি পেয়েছিলো। তিনি বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে খুনি হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পেরেছিলেন। অথচ ঐ হাসিনাই ষড়যন্ত্র করে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিলো। এ কথা বাংলাদেশের সকল মানুষ জানেন বলে তিনি জানান।

রাজশাহী যেমন বিএনপি’র ঘাটি ছিলো, এখনো আছে। অথচ এই বিএনপিকে একটি মহল প্রায় শেষ করে ফেলেছে। প্রকৃত পক্ষে তারা জনগণের পাশে এসে দাঁড়াতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করে তারা এতদিন থেকেছে। এর মুল প্রমান হচ্ছে বিগত দিনে সরকার পতনের আন্দোলনে তাঁদের তেমন কোন ভূমিকা ছিলোনা। অথচ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এই খুনি স্বৈরাচার সরকারের কবল থেকে বাঁচতে অনেক চেষ্টা করেছে। তিনি আরো বলেন, গত জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই খুনি হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। ছাত্র – জনতা আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছে। সুদুর লন্ডন থেকে এই আন্দোলনে অনেক পরামর্শ প্রদান করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মিনু আরো বলেন, খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি দ্রুত সময়ে সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান। সেই সাথে খুনি হাসিনা তথা আওয়ামী বাকশালীদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে খুনি হাসিনাসহ তার দোসরদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্য শেষে বাটার মোড় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি নিয়ে সোনাদিঘির মোড় হয়ে নগরীর প্রধান প্রদান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলুপট্টির মোড়ে গিয়ে শেষ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। জাতীয়বাদী মুক্তিযোদ্ধা দল রাজশাহী কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খোকার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ, সদস্য সচিব আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপি’র সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন।


যুবদল রাজশাহী মহানগরের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা বেগম টুকটুকি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট রওশন আরা পপি, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন, বিএনপি নেত্রী অধ্যক্ষ সালমা শাহাদাত, এডভোকেট সিফাত জেরিন তুলি সহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ।


এই বিভাগের আরো খবর