বিশ্বজোড়া বক্স অফিস থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সবখানে ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর দাপট। মাকড়শা-মানবের নতুন সিনেমা অবিশ্বাস্য সাফল্য পাচ্ছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় তার সঙ্গে আলাদা করে জায়গা নিয়ে রেখেছে ‘জিন গ্রে’। ‘স্পাইডার-ম্যান : ব্র্যান্ড নিউ ডে’র খল চরিত্র এটি। তার সঙ্গেই সুপারহিরোর লড়াই এবার।
নাম তার স্যাডি সিঙ্ক। বয়স সবে ২৪। তবে এরই মধ্যে হলিউডে পাকা অবস্থান গড়ে নিয়েছেন আমেরিকান এ অভিনেত্রী। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর সাহসী কিশোরী ‘ম্যাক্স মেফিল্ড’ কিংবা মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ‘দ্য হোয়েল’-এ আবেগঘন পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। তবে এবার যেন সবকিছুতেই ছাপিয়ে গেলেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার মাধ্যমে।
ব্রডওয়ে থেকে বিশ্বমঞ্চে উত্থান

মঞ্চের এই সাফল্য তাকে নিয়ে আসে বড় পর্দায়। ২০১৭ সালে নেটফ্লিক্সের সাই-ফাই সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর দ্বিতীয় সিজনে ‘ম্যাক্স’ চরিত্রে যোগ দিয়ে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন স্যাডি। বিশেষ করে সিরিজের চতুর্থ সিজনে স্কেটবোর্ডার ম্যাক্স হিসেবে তার আবেগময় ও রোমাঞ্চকর অভিনয় বিশ্বজুড়ে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
‘স্পাইডার-ম্যান’ ও রহস্যময় কাস্টিং
অভিনয় জীবনে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করার পর মার্ভেলের মহাসাগরে পা রাখলেন স্যাডি। তবে এই সিনেমায় তার যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়তায় ঘেরা। ২০২৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেডলাইন’ খবর প্রকাশ করে যে, টম হল্যান্ডের নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দিয়েছেন স্যাডি সিঙ্ক। তখন থেকেই ভক্তদের মাঝে তুমুল জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়, তাকে হয়তো ‘জিন গ্রে’ রূপেই দেখা যাবে।
এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে স্যাডি বলেন, ‘আমি ইন্টারনেট থিওরি দেখে বিষয়টিকে প্রথম জানতে পারি। কাস্টিংয়ের আগেই অনলাইনে ছড়াতে থাকে ‘স্যাডি সিঙ্ক নতুন স্পাইডার-ম্যানে থাকছেন।’ আমি ভাবলাম, ‘তাই নাকি? আমি নিজেই তো জানি না!’ কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এর ঠিক দুদিন পরই মার্ভেল থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়।’

মিউজিশিয়ান স্টিভ লেসি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুর্ঘটনাবশত গোপন তথ্য প্রকাশ করে দেন। তিনি বলে বসেন, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হলো ‘জিন’। সে ভিলেন হলেও তার এই খ্যাপাটে আচরণের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে।’
মার্ভেলের কড়া নিরাপত্তা ও জটিল চরিত্রায়ণ
মার্ভেলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনীর কারণে চরিত্রটির একটি ভুয়া নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি স্যাডি সিঙ্ক যখন লন্ডনে শুটিং সেটে যান, তখন পুরো স্ক্রিপ্ট পড়ারও সুযোগ পাননি। নিজের চরিত্রটির গভীরতা প্রসঙ্গে স্যাডি সিঙ্ক বলেন, ‘কেভিন ফিজ (মার্ভেল স্টুডিওসের প্রেসিডেন্ট) ও লুইস ডি’এসপোসিটো (নির্বাহী প্রযোজক) আমাকে মার্ভেল অফিসে ডেকে পুরো চরিত্রটি ব্যাখ্যা করেন। জিন গ্রে একটি জটিল ও আঘাতপ্রাপ্ত চরিত্র। সে যে নেতিবাচক আচরণ করে, তার পেছনে গভীর বেদনা রয়েছে। পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রিটন আমাকে বলেছিলেন, কোনো প্রথাগত খলনায়ক নয়, বরং একজন ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া তরুণী হিসেবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে।’
ভবিষ্যতে মার্ভেলের ‘এক্স-মেন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও দেখা যাবে জিনের চরিত্রটি। হলিউডে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সেখানে তার সঙ্গে স্কট সামার্স বা ‘সাইক্লপস’ হিসেবে কিট কনোর এবং ‘এমা ফ্রস্ট’ হিসেবে সামারা উইভিং যুক্ত হচ্ছেন। তবে মার্ভেলের সাথে তার চুক্তি ঠিক কতগুলো সিনেমার জন্য হয়েছে, তা এখনও রহস্যাবৃতই রেখেছেন এই তরুণ তারকা।







