স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম নির্যাতনে কষ্টে আমাদের বুকটা নীল হয়ে যায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট :
শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪
Share
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমন জুলুম নির্যাতনের শিকার ছিলাম যে আমরা কাঁদতেও পর্যন্ত পারিনি। কষ্টে আমাদের বুকটা নীল হয়ে গেছে, কষ্টের কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। আমাদের নেতাকর্মীর মারা গেলে শোক প্রকাশ এমনকি জানাজা ঠিকমতো পড়তে দেয়া হয়নি। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরীর আমীর ড. কেরামত আলী, সেক্রেটারী এমাজ উদ্দিন মন্ডল, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসাইন, এডভকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, সহ সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাহাবুবুল আহসান ও প্রচার সেক্রেটারী একেএম সারোয়ার জাহান প্রিন্স।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মীরা যেভাবে মামলা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাতে জামায়াতের উচিত প্রতিশোধ নেয়ার । কিন্তু জামায়াতে ইসলামী প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না করবেও না। জামায়াতে ইসলামী এখন দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোন অন্যায় কাজের সমালোচনা করতে দেয়া হয়নি। সমালোচনা করলে ডিজিটাল আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। মিছিল করতে গেলে পেছন থেকে গুলি ও টিয়ারশেল মারা হয়েছে। আমাদের উপর লাঠি চার্জ করা হয়েছে। আমাদের কাঁদতে পর্যন্ত দেয়া হয়নি, কথা বলতে দেয়া হয়নি। এরকম শ্বাসরোধ্য পরিবেশে আমরা ১৫/১৬টি বছর পার করেছি।
গত ১৫ বছরের জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের হামলা ও নিহতর ঘটনা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, রাজশাহীতে জামায়াতের ১২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। জামায়াত ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বিগত পনের বছরে অন্য সকল দলের চেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। প্রতিশোধ যদি নিতে হয় জামাতেরই প্রতিশোধ নেওয়া উচিত। সেটা না করে দেশ গড়ার কাজ করছে দলটি। জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধ নিতে চায় না। আমাদের পরিকল্পনা কীভাবে দেশটা নতুন করে সাজানো যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে সেই পরিবারগুলোকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।দেশ গড়তে এখন কোন সহিংসতা চায় না জামায়াত। এ সময় পুলিশের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অধিকাংশ মামলা ও নিযাতন রাজনৈতিক নেতৃবেৃন্দের আদেশে পুলিশের দারা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ তাদের নেতাকরর্মীদের নিযাতন করেছে। শুধু দেশের স্বার্থে পুলিশের থানাসহ ক্ষতিগ্রস্থ সকল সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা দেয়া সহ গুছিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আগামীতে সব ধরনের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির স্বোচ্চার থাকবে বলে জানান জামায়াত নেতারা।