সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

৩২ বছর বয়সে এমপি হয়ে কাজের মাধ্যমে জনতার মন জয় করেছিলেন নাদিম মোস্তফা : জনি

শরিফুল ইসলাম জনি, যুবদল নেতা, রাজশাহী।
আপডেট : রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪

আজ দুপুর ১২ টার কিছুক্ষণ পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া দূর্গাপুর) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনপ্রিয় জননেতা এ্যাডঃ নাদিম মোস্তফা (নাদিম ভাই)—–ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন……
নাদিম ভাই স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দাপুটে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে রাজশাহীর রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন এবং তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বেরগুনে রাজশাহীর রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন । নাদিম ভাই ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে ৯৫ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজশাহী জেলা শাখার দুই মেয়াদে “সভাপতি” ছিলেন। হয়েছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নাদিম মোস্তফা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের রাজনীতিতে তাঁর অবদান ও সাহসীকতা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ।দলের কারণেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিলো বারবার।
১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে রাজশাহী-৫ (পুঁঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য(৯১ সালে নির্বাচিত) রাজশাহী আওয়ামীলীগের দাপুটে নেতা তাজুল ইসলাম ফারুখ কে পরাজিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাদিম মোস্তফা। পরবর্তীতে ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। পুঁঠিয়া-দূর্গাপুর এলাকায় নাদিম ভাইয়ের হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়ন হয় যার অনেক অবকাঠামো এখনো দৃশ্যমান এবং পুঁঠিয়া-দূর্গাপুর এলাকার মানুষের কাছে নাদিম মোস্তফার জনপ্রিয়তা এখনো পাহাড়সম। পুঁঠিয়া-দূর্গাপুর এলাকার মানুষকে নাদিম মোস্তফা ভালবাসতেন হৃদয় দিয়ে। জনগণও তাকে হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান দিয়েছিলেন। বিএনপি’র প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে রাজশাহীর রাজনীতিতে নিজের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরী করেছিলেন জননেতা এ্যাডঃ নাদিম মোস্তফা।
২০০৪ সালে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র “সাধারণ সম্পাদক” হন নাদিম মোস্তফা ।
১/১১ সমর্থিত সেনা সমর্থিত সরকারের সময় বিএনপি’র বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয় সে ধারাবাহিকতায় নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন গংরা ষড়যন্ত্র করে ভিত্তিহীন মামলায় সাজা প্রদান করে। পরবর্তী কোর্টে স্যারেন্ডার করে কারাগার থেকে বের হয়ে ২০০৯ সালে নাদিম মোস্তফা রাজশাহী জেলা বিএনপি’র “সভাপতি” হন এবং বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে নাদিম মোস্তফাকে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক (বিশেষ দায়িত্বে) পদ দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে এ্যাডঃ নাদিম মোস্তফা রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সভাপতি হওয়ার রাজশাহী জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে ত্যাগী, পরিক্ষিত ও অনেক বঞ্চিত নেতা-কর্মীকে একত্রিত করে মূল ধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করেন যা নাদিম মোস্তফার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বেরগুণেই সম্ভব হয়েছিলো ।
আমার মত এক ক্ষুদ্র কর্মীকেও নাদিম মোস্তফা রাজনীতিতে সুযোগ করে দিয়েছিলেন এজন্য আমি জননেতা নাদিম মোস্তফার কাছে চিরকৃতজ্ঞ ।
নাদিম ভাইয়ের সবচেয়ে বড়গুণ ছিল তিনি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে পারতেন এবং কর্মীদের বিপদে তিনি পাশে থাকতেন ।
নাদিম মোস্তফা ভাই ই প্রথম রাজশাহী জেলা সভাপতি যিনি রাজশাহী জেলা বিএনপি’র ব্যানারে রাজশাহীতে কর্মসূচি পালন করা শুরু করেছিলেন। এখন সে ধারা অব্যাহত আছে।
নাদিম মোস্তফা ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন খুবই সাহসী নেতা। অসংখ্য নেতা তৈরী হয়েছে তাঁর হাত ধরে যারা এখনো বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন । সবশেষ এ্যাডঃ নাদিম মোস্তফা বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে ছিলেন।
আজ নাদিম ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি আল্লাহ্ নাদিম ভাইয়ের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাকে বেহেশত নসীব করুন……!!
লেখক : শরিফুল ইসলাম জনি, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক। 


এই বিভাগের আরো খবর