মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

থিম ওমর প্লাজা ভবন দখলের অভিযোগ সাবেক এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫

মাত্র ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে রাজশাহীতে ১০ তলা একটি ভবন দখল করেছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। ভবনটির নাম থিম ওমর প্লাজা। রাজশাহী নিউমার্কেটের সামনের এই ভবনের প্রথম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত শপিং মল। আর অষ্টম থেকে দশম তলা পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট।
থিম রিয়েল এস্টেট নামের একটি লিমিটেড কোম্পানি করে ফারুক চৌধুরীর ৩০ কাঠা জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কোম্পানি গঠনের সময় ওমর ফারুক চৌধুরীর ৩৫ শতাংশ এবং থিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের মালিকানা নির্ধারণ করা হয় ২৫ শতাংশ। ২০ শতাংশ করে বাকি ৪০ শতাংশ ছিল অন্য দুই অংশীদারের। তবে ভবন নির্মাণের পর সবাইকে বিতাড়িত করে সবই দখল করেছিলেন ফারুক চৌধুরী। সরকারের পতনের পর বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে পুরোনো মামলা সম্প্রতি সচল হয়েছে।

ওমর ফারুক চৌধুরী ছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের টানা চারবারের এমপি। ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে ভবন উদ্ধার করতে পারেননি অন্য অংশীদারেরা। মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালে একটি মামলা করলেও ফারুক চৌধুরী প্রভাব খাটিয়ে এত দিন সেই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি আদালত স্থগিতাদেশ ‘ভ্যাকেট’ করে মামলার কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

কীভাবে ভবন দখল হয়—এ বিষয়ে জানতে চাইলে থিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের মে মাসে ঈদের আগে তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকায় যান। যাওয়ার পরদিন শুনতে পান, ফারুক চৌধুরীর লোকজন গিয়ে কোম্পানির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের করে দিয়ে নিজেকে ভবনের একক মালিক ঘোষণা করেছেন। এই ভবনের মালিকানা দাবি করে কেউ এলে আর ফিরে যেতে পারবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। প্রাণের ভয়ে তাঁরা আর যেতে পারেননি।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৮ সালেই ভবনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১০০ কোটি টাকা। ৩৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হিসেবে ফারুক চৌধুরীর বিনিয়োগ ধরা যায় ৩৫ কোটি। কিন্তু ফারুক চৌধুরী দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির একটি টাকাও তাঁদের দেননি। এখন পর্যন্ত কোনো দোকানের ভাড়াও তাঁরা পাননি।

মোস্তাফিজুর রহমান ওই ভবন থেকে বিতাড়িত হলেও সম্প্রতি প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়েছেন। তিনি জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভবনটি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানতে চাইলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ধানমন্ডি জোনের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপক হাসিবুল আসাদ বলেন, ‘সম্প্রতি আমি প্রিমিয়ার ব্যাংক ছেড়ে অন্যত্র জয়েন করেছি। সর্বশেষ যতটুকু জানি, থিম ওমর প্লাজা নিলামের শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। ঋণ পরিশোধ না করায় এ সিদ্ধান্ত।’

বেয়াই বাড়িতে ফারুক চৌধুরী?

ফারুক চৌধুরীর বড় মেয়ে নাফিজা হক চৌধুরীর শ্বশুর জামালপুরের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মিল্লাতের ছেলে ও ফারুক চৌধুরীর জামাতা শাহাদাত বিন জামান শোভন বর্তমানে রাজশাহীর এই পলাতক নেতার ব্যবসা ও সম্পত্তির দেখভাল করছেন বলে জানা গেছে। ফারুক চৌধুরীর ব্যবসায়িক অংশীদার মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, ঢাকার গুলশানে বেয়াই বাড়িতেই সপরিবারে লুকিয়ে আছেন সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এ বিষয়ে জানতে শাহাদাত বিন জামান শোভনকে ফোন করে পরিচয় দিলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

-এটি আজকের পত্রিকার রিপোর্ট


এই বিভাগের আরো খবর