মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

হাসিনার সময়ও এমন হতো : আমির হামজার

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি আমির হামজা। প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও।

মাহফিল উপলক্ষে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। মাঠে বড় প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও চলছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আয়োজনটি বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, গত ১৩ অক্টোবর মাহফিলের অনুমতি চেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন করা হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে জানানো হয়, মাহফিলের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়।

গোদাগাড়ীর ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ছাড়পত্র ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই। পুলিশের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সেটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা এসপি মামুন অর রশিদ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুফতি আমির হামজা।

পোস্টে মুফতি আমির হামজা লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি মুফতি আমির হামজা। রাজশাহীতে আমার একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন? কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো? নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। কিন্তু অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন? রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে?

তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা করা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই বক্তব্যের জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া হোক। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি কি ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে পারব না? ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে?

ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য কোনও ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ কি সবার জন্য সমান থাকবে?

সবশেষে মুফতি আমির হামজা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আশা করি আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং জনগণের সামনে এই সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

অন্যদিকে, এক ভিডিও বার্তায় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায় ও বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় আলোচনা ও তাফসির মাহফিল বন্ধ করার এ প্রবণতা থেকে সরে আসতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফল সরকারকে ভোগ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তার অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বিগত সরকারের আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের আচরণ করা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশের নিরাপত্তা প্রতিবেদন না পাওয়ার কথাই জানানো হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা-ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছিল কি না কিংবা পুলিশের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। ফলে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের সুনির্দিষ্ট কারণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা।


এই বিভাগের আরো খবর